যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে নতুন কড়াকড়ি: আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতির মেয়াদ কমাল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের জন্য কাজের অনুমতির মেয়াদ বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ইউএসসিআইএস (U.S. Citizenship and Immigration Services) কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট (EAD)-এর সর্বোচ্চ মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ মাস করেছে ।
পরিবর্তনটি ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দাখিল করা বা এখনও বিচারাধীন থাকা কর্মসংস্থান অনুমোদন আবেদনগুলোর ওপর প্রযোজ্য হবে। নতুন নীতির ফলে আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী, নির্বাসন স্থগিত পাওয়া ব্যক্তি এবং যাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন বিচারাধীন এমন বহু মানুষের কর্মজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি কারণ দেখিয়ে সিদ্ধান্ত
ইউএসসিআইএস (USCIS) পরিচালক জোসেফ এডলো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এতে জননিরাপত্তা আরও সুরক্ষিত হবে এবং “ক্ষতিকর মতাদর্শ” ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার পর এই নজরদারি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। হামলাকারী একজন বিদেশি নাগরিক ছিলেন, যিনি পূর্ববর্তী প্রশাসনের অধীনে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন।
কারা এই নিয়মে প্রভাবিত হবে?
নতুন নিয়ম কার্যকর হবে —
•শরণার্থী (Refugees)
•আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তি (Asylees)
•নির্বাসন/ডিপোর্টেশন স্থগিত পাওয়া ব্যক্তি
•যাদের স্থায়ী আবাসনের আবেদন (Green Card process) বিচারাধীন
এদের সবাইকে এখন থেকে প্রতি দেড় বছর পরপর কাজের অনুমতি নবায়ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে অসংখ্য অভিবাসীর কর্মসংস্থান বিলম্বিত হবে এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় ও সময় লাগবে।
অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতা
শুধু কাজের অনুমতির মেয়াদই নয়— প্রশাসন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন সুবিধা প্রদানে ইতোমধ্যে বিরতি দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ইউএসসিআইএস (USCIS)।
এই নতুন নির্দেশনা ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন নীতির আরেকটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষত, নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে আইনগত পথেও যুক্ত হওয়া অভিবাসীদের ওপর চাপ বাড়ছে— এমনই মত মানবাধিকার সংস্থাগুলোর।
Share This:
You might also like