হলফনামায় জালিয়াতি: মদ চোরাচালান মামলায় কোর্টে হাজির না হয়েও খালাস দেখালেন গফুর ভূঁইয়া

বাতিল হতে পারে মনোনয়ন

বাংলা টাইমস ডেস্ক:

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন অপর প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরে আলম।

আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সিআরপিতে সুতা আমদানির আড়ালে মদ চোরাচালানের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুদ হাসান একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের হয় ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। মামলার নম্বর— বন্দর থানা জিআর-১৫২, তিনি এ মামলায় চার নম্বর এজহারীয় আসামি হিসেবে আছেন।

নির্বাচনী হলফনামায় গফুর ভূঁইয়া মামলাটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু চট্টগ্রাম মেজিস্ট্রেট কোর্টে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি মামলায় কখনো হাজির হননি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে খালাসও নেননি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কোর্টের জিআরও বলেন, “তিনি (গফুর সাহেব) এ মামলায় কোর্টে হাজিরই হননি। তাহলে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন কীভাবে? ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার কোর্টের কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত মামলার নথিতে অব্যাহতি সংক্রান্ত কোনো বিচারকের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।”

প্রার্থিতা বাতিলের আবেদনকারী অ্যাডভোকেট নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “বিচারিক ফয়সালা ছাড়া এবং কোর্টে হাজির না হয়ে কেউ কীভাবে মামলায় অব্যাহতি পান? তিনি সত্য গোপন করেছেন এবং মদ চোরাচালান মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এজন্য তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে আমরা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, ২৯ তারিখে হলফনামায় স্বাক্ষরিত নথিতে গফুর ভূঁইয়া মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। অথচ ৩০ তারিখে কুমিল্লা ডিএসবি স্বাক্ষরিত নথিতে দেখা যায়, তিনি এজাহারে অভিযুক্ত এবং অব্যাহতি পাননি।

এছাড়াও মামলা নম্বর—

  • জি আর-৮২/৮,
  • জি আর-১৩৮/৮,
  • এবং অস্ত্র আইনের মামলা নাঙ্গলকোট থানা নং-০১

এই তিনটি মামলার তথ্যও তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেননি। যদিও ২০০৮ সালের হলফনামায় এসব মামলার তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মদ চোরাচালানের মামলার নথি অনুযায়ী, তিনি সহ আটজন সুতা আমদানির নামে—

  • আমেরিকান হুইস্কি – ৬০০ লিটার
  • স্প্যানিশ হুইস্কি – ১২০০ লিটার
  • ইতালীয় ভদকা – ১২০০ লিটার
  • স্কটিশ হুইস্কি – ৪৫০০ লিটার
  • সাউথ আফ্রিকান রেড ওয়াইন – ১০২৬ লিটার
  • পর্তুগিজ রেড ওয়াইন – ৪৫০ লিটার
  • সুইডিশ ভদকা – ১৮০০ লিটার
  • স্কটিশ ব্ল্যাক হুইস্কি – ৯০০ লিটার

মোট ১১,৬৭৬ লিটার মদ ১০০ প্যাকেট গার্মেন্টস অরিয়েন্টেড ফেব্রিকের পরিবর্তে চোরাই চালান করেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বায়রার নির্বাচনে ব্যস্ত আছেন বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।

Share This:
You might also like