রাজধানীতে ‘অদৃশ্য হাত’, ছড়িয়ে পড়েছে নতুন আতঙ্ক

বাংলা টাইমস ডেস্ক:

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনের জানালা দিয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। চলন্ত যানবাহনের ভেতর থেকে হঠাৎই এক ‘অদৃশ্য হাত’ জানালা দিয়ে ঢুকে মুহূর্তের মধ্যে ফোনটি নিয়ে যায়। কেউ বোঝার আগেই অপরাধী গা-ঢাকা দেয়। এ কারণে যাত্রীদের মধ্যে এখন তৈরি হয়েছে ‘অদৃশ্য হাতের আতঙ্ক’।

ভুক্তভোগীরা জানান, যানজটে আটকে থাকা বা সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় যাত্রীরা জানালার পাশে বসে ফোন ব্যবহার করলেই চোরের দল সুযোগ নেয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জানালার ফাঁক দিয়ে ফোন টেনে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আশপাশের লোকজন বুঝে ওঠার আগেই ছিনতাইকারী জনতার ভিড়ে মিশে যায়।

ব্যস্ততম কারওয়ান বাজারসহ, উত্তরা, টঙ্গী, আবদুল্লাহপুর, হাউসবিল্ডিংয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, গুলিস্তান, বাবু-বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যস্তময় সড়কে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোর-ছিনতাইকারী ও পকেটমার চক্রের সদস্যরা।

ফার্মগেট থেকে মতিঝিলগামী একটি বাসে ভুক্তভোগী অফিসকর্মী সাব্বির হোসেন জানান,

বাসটা কারওয়ান বাজার মোড়ে থেমেছিল। আমি জানালার পাশে বসে ফোন চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ এক হাত জানালা দিয়ে এসে ফোনটা টেনে নেয়। আমি শুধু ‘এই’ বলতেই লোকটা অদৃশ্য।’

একই এলাকার আরেক ভুক্তভোগী মাহমুদা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন,

‘বিকেলে ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। বাস সিগন্যালে দাঁড়ানো অবস্থায় জানালার বাইরে তাকিয়েছিলাম, সেই সময় আমার হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেয়। আমি ভয় পেয়ে চিৎকার করলেও বাসের চালক কিছুই বুঝে ওঠেননি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহাবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালিদ মনসুর বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি আমাদের মোবাইল টিমগুলোকে আরও সম্পৃক্ত ও বাড়ানোর জন্য। আমাদের নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘আশা করি নজরদারি বৃদ্ধিতে এই সমস্যা কমে যাবে। তাদেরকে আইনের আওত্তায় নিয়ে আসার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

রেল ভ্রমণেও একই চিত্র। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে থামলে জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ফোন, ব্যাগ এমনকি গলার চেইনও ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

এদিকে ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ বিভিন্ন লোকাল বাসের চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন সময় এদের ধরে মামলা চালান দিলেও কয়েকদিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারও একই কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ দাবি করেন, নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

 

Share This:
You might also like