অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, বিপাকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী
বাংলা টাইমস ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থায় একগুচ্ছ নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এসব পরিবর্তনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়া এবং এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভাষ্য, ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ও ‘ভিসা হপিং’ কমানো এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষাগত উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বেশিরভাগ অস্থায়ী ভিসাধারী এখন দেশটির ভেতর থেকে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। এর ফলে অন্য ধরনের অস্থায়ী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পরে দেশটির ভেতর থেকেই স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবর্তনের সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়েছে।
তবে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। স্কুলশিক্ষার্থী, কিছু উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থী এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ভিন্ন নিয়মের আওতায় পড়তে পারেন।
পরিবার নেওয়ার সুযোগও সীমিত
নতুন নিয়মে স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নিয়ম এক নয়।
PhD শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট Pacific ও ASEAN দেশের নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়া বা বিদেশি সরকারের স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় বৈধভাবে অবস্থান করলে নতুন নিয়মের কারণে তাদের আলাদা করে দেওয়া হবে না। তবে পরে আলাদাভাবে পরিবারের সদস্যকে ‘subsequent entrant’ হিসেবে যুক্ত করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনে ১২ মাসের শর্ত
নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হয়েছে।
৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় স্কুল ছাড়া অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাধারণভাবে তাদের মূল কোর্সে কমপক্ষে ১২ মাস থাকতে হবে। এর আগে এই সময়সীমা ছিল ছয় মাস।
তবে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া, কোর্সের নিবন্ধন বাতিল হওয়া বা এ ধরনের বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে নির্দিষ্ট শর্তে ১২ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেও প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে পারে।
স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রথম নিবন্ধিত স্কুল কোর্সের জন্য ছয় মাসের নিয়ম বহাল থাকবে।
২০২৭ সালে নতুন ট্রান্সফার স্ট্রিম
২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য নতুন ‘Student Visa Transfer Stream’ চালু করার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
এই ব্যবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে চাইলে নতুন ধারায় আবেদন করতে হবে। নতুন ভিসা অনুমোদনের আগে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরু করা যাবে না।
নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা সাধারণভাবে একই স্তরের অথবা Australian Qualifications Framework অনুযায়ী উচ্চতর স্তরের কোর্সে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
উচ্চশিক্ষা থেকে VET কোর্সে যাওয়ার পথ বন্ধ
নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়ে পরে দেশটির ভেতর থেকেই Vocational Education and Training (VET) কোর্সে যাওয়ার সুযোগও বন্ধ করা হয়েছে।
সরকারের মতে, স্টুডেন্ট ভিসার মূল উদ্দেশ্য যাতে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত পড়াশোনার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে এবং ভিসা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘ করার প্রবণতা কমে—এ জন্যই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে ভিসা ব্যবস্থার অখণ্ডতা রক্ষা করাও প্রয়োজন। নতুন সংস্কারের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি ভিসার অপব্যবহার কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন নিয়মের অর্থ অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে—এমন নয়। যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থীরা এখনও স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরিবর্তনগুলো মূলত ভিসা আবেদন করার স্থান, পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করার সুযোগ এবং অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর কোর্স বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের নিয়মকে কঠোর করেছে।




