মাদারীপুরের ৫ যুবককে রোমানিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি
অনলাইন ডেস্ক:
রোমানিয়ায় দালাল চক্রের হাতে বন্দি রয়েছে মাদারীপরের পাঁচ যুবক। রোমানিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে ইতিমধ্যে তাদের পরিবারের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রের সদস্যরা। বর্তমানে রোমানিয়ার অজ্ঞাত কোন স্থানে আটকে রেখে তাদের পরিবারের কাছে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে আরও টাকা দাবি করছে চক্রটি। অভিযোগ পাওয়ার পর চক্রের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগীদের পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে সেদিনই চক্রের একজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত আল আমিন (২৯) মাদারপুর সদর উপজেলা হাজির হাওলা এলাকার জাফর বেপারীর ছেলে।
রোমানিয়ায় দালাল চক্রের হাতে বন্দিরা হলেন- মাদারীপুর ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল গ্রামের মৃত সৈয়দ সালমের ছেলে তানভীর এবং একই গ্রামের সাঈদ হাওলাদারের ছেলে বায়েজিদ হাওলাদার ও রাশেদ হাওলাদার, মাদারীপুর সদর খোয়াজপুর উইনিয়নের মিলন মিয়া ও মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের সিকি নওহাটা গ্রামের রমোফাজ্জেল হাওলাদার।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদারপুর সদর হাজির হাওলা এলাকার জাফর বেপারীর ছেলে আল আমিন (২৯), মাদারীপুর সদর রাস্তি এলাকার শামিম আকন ও তার স্ত্রী মোসা. সুমি বেগম (২৮), রাস্তি এলাকার বাসিন্দা সিরাজ আকন (৬০), মাদারীপুর সদর হাজির হাওলা এলাকার জাফর বেপারী ও তার স্ত্রী রীনা বেগম, হাজির হাওলা এলাকার সিরাজ আকনের স্ত্রী রানু বেগম। তারা সবাই একই দালাল চক্রের সদস্য। রোমানিয়ায় অবস্থানরত তাদের আত্নীয়স্বজনের মাধ্যমে ইতালিতে পৌঁছে দিতে পারবে এবং উচ্চ বেতনে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চলতি বছরের গত ৩ আগস্ট ভুক্তভোগী পাঁচজনের পরিবারের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা করে নেয়।
১ মাসের মধ্যে ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্নভাবে তারা কালক্ষেপণ করে। বর্তমানে ওই পাঁচ যুবককে ১৫ দিন ধরে রোমানিয়ায় কোন এক স্থানে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা করে দাবি করছে চক্রের সদস্যরা। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করা হলে দালাল চক্রের সদস্য আল আমিনকে আটক করে পুলিশ।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানান, তাদের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একই দালাল চক্রের হাতে বসনিয়ায় বন্দি রয়েছে মাদারীপুরের আরও পাঁচজন যুবক।
রোমানিয়ায় বন্দি থাকা তানভীরের ভাই মো. সৈয়দ শেলিম জানান, ‘রোমানিয়া থেকে ইতালিতে পাঠানোর জন্য গ্রীসে অবস্থানরত শাহিনের সঙ্গে চুক্তি করে তার ভাগিনা আল আলিন ও তার স্ত্রী সুমিসহ সবাইকে উপস্থিত রেখে আমরা পাঁচ পরিবার তাদেরকে ৮ লাখ টাকা করে দেই। কিন্তু তারা আমার ভাইসহ অন্যদের ইতালিতে না নিয়ে রোমানিয়ার কোন এক জায়গায় আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করছে। আমরা আমার ভাইসহ সবাইকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি চাই এবং এর বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে আল আমিনের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ কারার পর থেকে তারা কেউ বাড়িতে নেই বলে জানান আশেপাশের লোকজন।
তবে অভিযুক্ত শাহিনের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, স্বামীর সঙ্গে তার অনেক বছর কোনো যোগাযোগ নেই। তা ছাড়া তিনি বাবার বাড়িতে থাকেন। ভুক্তভোগীরা শাহিনকে টাকা দিয়েছে কিনা এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলেই জানান সুমি বেগম। তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরে আমি শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।’
এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই একজনকে আটক করেছি। আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
*সৌজন্য: আমাদের সময়




