রেস্টুরেন্টে সুস্বাদু নেহারি ও পায়ার নামে কী খাচ্ছি আমরা?
অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টের জনপ্রিয় খাবার নেহারি বা গরুর পায়া। সুস্বাদু ও জনপ্রিয় এ খাবারটি আসলে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত সেটার অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অনেক গোপন তথ্য। বাংলাভিশনের নিয়মিত আয়োজন ক্রাইম এন্ড করাপশনে উঠে এসেছে নেহারির ভেতরের তথ্য।
আসলে ভারত থেকে আসা সেদ্ধ মহিষের পায়া দিয়ে তৈরি নেহারিই উঠে আসছে রাজধানীবাসীর প্লেটে। হোটেল ব্যবসায়ীরা স্বীকারও করেছেন এসব পায়া খাওয়ানো কথা। অনেকে রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করেন রামপুরায়, কিন্তু তারা পায়া এবং মাংস আনেন সায়দাবাদ যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য বাংলা ভিশন টিভির প্রতিবেদক শুরুতে যান রাজধীন মাংস কেনাবেচার অন্যতম বৃহৎ বাজার কাপ্তান বাজারে। সেখানে প্রতিবেদকের উপস্খিতি টের পেয়ে গেলে অনুসন্ধান থেমে যায়।
তবে থেমে যাননি প্রতিবেদক। গোপন উৎসের থেকে তথ্য আসে- জুরাইনের কিছু মাংস বিতান থেকে রাজধানীর বিভিন্ন খাবার হোটেলে এসব মহিষের পায়া কেটে টুকরো টুকরো করে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়া মাত্রই প্রতিবেদক দেখতে পান ভারত থেকে আসা সেদ্ধ করা মহিষের পা। সেই সাথে সেদেশ থেকে আসা প্যাকেটজাত মাংস। একাধিক কর্মচারী দিয়ে খাবার হোটেলের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এসব পায়া এবং মাংস।
প্রতিবেদনে কথা বলেন মাংসের দোকানের মালিকের সাথে। কিছুক্ষণ পর দেখতে পান লাইসেন্সধারী মাংস ব্যবসায়ী নাসিরের। তিনিও জানান অনেক কথা।
জুরাইন থেকে আবার কাপ্তান বাজার। এবার সেখানে দেখা মিললো সেই মহিষের পায়া।সামনে যেতেই প্যাকেট মাংসের দেখা। দোকানের ভিতরে কার্টুন সাজিয়ে রাখা প্যাকেটজাত গরুর মাংস।
তবে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের মতে, মাইনাস ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখার কথা এসব প্যাকেটজাত মাংস। তার কোন বালাই নেই এখানে।
একটু সামনের দোকানে যেতেই দেখা মেলে প্ল্যাস্টিকের সাদা বস্তা। দেখে বুঝার উপায় নেই এর ভিতরে কি রয়েছে। জানতে চাইলে আমাদের সামনেই বের করা হলো বরফ করা খাসির মাংসের পিছ। এই মাংসের বিষয় কথা বলতে চাইলে নানা যুক্তিও তুলে ধরলেন এই ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব প্যাকেটজাত মাংসের জন্য জবাইকৃত গরুর মাংসের বেচাকিনি কম।
রাজধানীর খাবার হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, ভারত থেকে আনা পায়া কি প্রক্রিয়ায় খাওয়ানো হয়। কথা হয় কয়েকজন হোটেল ব্যবসায়ীর সাথেও। রাজধানীর বেশিরভাগ খাবার হোটেল গুলোই তাদের নেহারি ও গরুর মাংসের জন্য। ভারত থেকে আসা মাংস ও পা ব্যবহার করে থাকেন। আবার অনেকেই জানেন না কে বা করা মাংস দিয়ে যায়।
কেন বা কি কারনে এসব মহিষের পায়া ভারত থেকে আনা হয় এবং গরুর পায়া বলে খাওয়ানো হয় তা তদারকি করা হয় কি না সে বিষয় কথা বলতে চাই নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষের উপ-সচিব ড. সহদেব চন্দ্র সাহার কাছে। তিনি জানান, আমদানি বৈধ তবে এগুলো মাইনাস ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণের বাধ্যবধকতা থাকলেও তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা।
বাংলা ভিশন








