রাতারাতি তারকা, এখন জীবন চালাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচেন রাহুল

Bangla Times Desk:

একসময় ‘আশিকি’ দিয়ে রাতারাতি তারকা। আজ জীবন নতুন করে গড়ার লড়াইয়ে রাহুল রায়। ব্রেন স্ট্রোকের পর পাঁচ বছরের কঠিন সময়, আর্থিক সংকট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রল—সবকিছুর মধ্যেও থেমে থাকতে চান না নব্বই দশকের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

নব্বই দশকের শুরুতে ভারতের তরুণ-তরুণীদের কাছে এক নাম ছিল রাহুল রায়। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আশিকি’ তাঁকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দিয়েছিল। ছবির গান, প্রেমের গল্প আর রাহুল রায়ের ‘চকলেট বয়’ ইমেজ—সব মিলিয়ে সে সময় তিনি হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের অন্যতম আলোচিত মুখ।

এরপর ‘জুনুন’, ‘ফির তেরি কাহানি’, ‘ইয়াদ আয়ি’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন রাহুল রায়। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সেই অভিনেতার জীবন যে একসময় এমন মোড় নেবে, তা হয়তো ভাবেননি রাহুল নিজেও।
২০২০ সালে ব্রেন স্ট্রোক এই অভিনেতার জীবনকে কার্যত দুই ভাগে ভাগ করে দেয়—স্ট্রোকের আগের জীবন ও পরের জীবন।

দীর্ঘ চিকিৎসা, সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই, কাজের অভাব ও আর্থিক চাপের মধ্য দিয়ে কেটেছে পরের কয়েক বছর। এখন আবার ধীরে ধীরে কাজে ফিরছেন রাহুল। তবে এই ফেরা কোনো রূপকথার মতো সহজ নয়। জীবন চালাতে কখনো তাঁকে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে হয়েছে। আর সেই কাজ করেই কখনো কখনো আয় করেছেন দুই লাখ থেকে চার লাখ রুপি। সম্প্রতি এ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন রাহুল রায়।

‘আমারও তো রুটিরুজি চালাতে হয়’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি রাহুল রায়ের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাঁকে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে এবং নিজের পুরোনো গানের সঙ্গে পারফর্ম করতে দেখা যায়। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করেন।

কিন্তু সমালোচকদের জন্য রাহুলের উত্তর ছিল সরাসরি। তিনি বলেছেন, তাঁর খরচ আছে, তাঁর টাকার প্রয়োজন আছে। ২০২০ সালের ব্রেন স্ট্রোকের পর নতুন করে কাজ পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই জীবন চালিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি যা কাজ পেয়েছেন, তা-ই করেছেন।

পাঁচ বছর যেন এক দীর্ঘ বিরতি
রাহুল রায়ের ভাষায়, স্ট্রোকের পরের পাঁচ বছর তাঁর জীবনে প্রায় বিরতির মতো কেটেছে। তিনি সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। নিয়মিত কাজ করার সুযোগ ছিল না। তাঁর ধারণা, স্ট্রোক না হলে এই সময়ে তিনি আরও অনেক কাজ করতে পারতেন। কিন্তু জীবন তাঁকে অন্য পথে নিয়ে যায়।

দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর এখন আবার ক্যামেরার সামনে ফিরতে পারছেন রাহুল রায়। নতুন করে সেটে দাঁড়ানো, অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া—এগুলোকে এখন তিনি নতুন জীবনের অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি।
প্রায় চার দশকের অভিনয়জীবনের কথা উল্লেখ করে রাহুল বলেন, তাঁর বিশ্বাস, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কিছু ভালো কাজ করেছেন। এখন তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়েই আরও কাজ করতে চান। তাঁর লক্ষ্য এখন একটাই—জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসকে নতুন করে গড়ে তোলা।

বদলে গেছে জীবনযাপন
স্ট্রোকের পর শুধু ক্যারিয়ার নয়, বদলে গেছে রাহুল রায়ের জীবনযাপনও। সাম্প্রতিক একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অসুস্থতার পর নিজের খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনেছেন তিনি। ধূমপান ছেড়েছেন। এখন তিনি নিরামিষ ও ভেগানধর্মী খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন এবং পেঁয়াজ, রসুন ও দুগ্ধজাত খাবারও এড়িয়ে চলেন বলে জানিয়েছেন।

রাহুল আরও জানান, বর্তমানে তাঁকে প্রতিদিন আট ধরনের ওষুধ খেতে হয়।
তবে চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের পর সুস্থতার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট খাবার একাই অলৌকিকভাবে কাজ করে, এমন প্রমাণ নেই। নিয়মিত চিকিৎসা, চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই গুরুত্বপূর্ণ।
রাহুলের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস বদলানো তাঁর ব্যক্তিগত জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত। তবে তাঁর কাছে এ পরিবর্তন যেন নতুন জীবন শুরু করার প্রতীকও।

‘৬০ বছর বয়সে আবার নিজের সাম্রাজ্য গড়ছি’
আর্থিক চাপের কথায়ও কোনো রাখঢাক করেননি রাহুল রায়। তিনি জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরে একটি আইনি বিষয় নিয়ে তাঁকে লড়াই করতে হচ্ছে। বিষয়টি তাঁর ও ভাইয়ের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ রুপির একটি বিরোধসংক্রান্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাহুল চান, বিষয়টির সমাধান হোক।

ব্যক্তিগত জীবনেও বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁর আর্থিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিচ্ছেদের সময় নিজের সম্পদের বড় অংশ স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছিলেন তিনি। এখন তাঁকে আবার নতুন করে নিজের আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলতে হচ্ছে।

একটি কথায় রাহুল নিজের বর্তমান অবস্থাটা ব্যাখ্যা করেছেন, ‘আমি ৬০ বছর বয়সে নিজের সাম্রাজ্য গড়ার চেষ্টা করছি।’ বয়সের হিসাব নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছু অসামঞ্জস্য থাকলেও রাহুলের বক্তব্যের মূল কথা স্পষ্ট—জীবনের এই পর্যায়েও তিনি নতুন করে শুরু করতে চান।

একসময় তারকাখ্যাতি পাওয়া এক অভিনেতার জন্য আবার শূন্য থেকে শুরু করা সহজ নয়। কিন্তু রাহুল রায় সেই বাস্তবতাকে অস্বীকারও করছেন না।

Share This:
You might also like