প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক:

পাবনায় প্রকাশ্যে পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ছায়দার রহমান মালিথাকে (৫০) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর বাঙ্গাবাড়িয়া গ্রামের মসজিদের পাশে নজুর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ছায়দার রহমান বাঙ্গাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাবলীপাড়া মহল্লার মৃত হারান মালিথার ছেলে। তিনি পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট তসলিম হাসান খান সুমন।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, জুমার নামাজের কিছুক্ষণ আগে নজুর মোড়ের একটি চায়ের দোকানে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বসে ছিলেন ছায়দার রহমান। এ সময় হেলমেট পরিহিত মোটরসাইকেলযোগে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে ছায়দারকে ঘিরে ধরে। ভয়ে ছায়দারের সঙ্গে থাকা লোকজন দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে কাছ থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মাসুদ আলম বলেন, ঘটনার সময় সবাই মসজিদে নামাজ পড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। এই ফাঁকে কে বা কারা ছায়দার রহমানকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

তিনি জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত ছাড়া এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

নিহত ছায়দার রহমানের নাতি সাদ্দাম মোল্লা জানান, দুপুরে ফোন করে তিনি (ছায়দার) তাকে (সাদ্দাম) ডাকেন। বাজারে কথা বলা শেষ করে জুমার নামাজ পড়ার জন্য বাড়ির দিকে রওনা হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতের স্ত্রী দিলরুবা জাহান বলেন, ছায়দার রহমানের সাথে হেমায়েতপুর ইউপির সাবেক এক চেয়ারম্যানের জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। কয়েক দিন ধরে ওই সাবেক চেয়ারম্যান তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবারও তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকাশ্যে তাকে মেরে ফেলা হলো।

এখন তিন নাবালক সন্তান নিয়ে কী করবেন? এই প্রশ্ন রেখে দিলরুবা বলেন, যারা তার স্বামীকে হত্যা করেছে তাদের শাস্তি চান।

পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হত্যাকারীদের গ্রেফতারে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট তসলিম হাসান সুমন বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তাকে খুন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। তিনি জানান, তারা এ হত্যার প্রতিবাদে কর্মসূচি দেবেন।

Share This:
You might also like