একই কারাগারে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই কয়েদির প্রেম, প্যারলে বিয়ে
অনলাইন ডেস্ক:
ভারত রাজস্থানে এক জেলখানার অন্ধকার থেকে জন্ম নেওয়া অদ্ভুত প্রেম আর আইনের গাইডলাইনের মধ্যে দিয়ে চলা যাত্রা—এমনটাই দেখাচ্ছে রাজস্থানের একটি কারাগারের ঘটনা।একই কারাগারে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই কয়েদি প্যারলে মুক্তি পেয়ে বিয়ে করতে চলেছেন। তাদের এই গল্প সিনেমার চিত্রনাট্য মনে হলেও এটি সম্পূর্ণ বাস্তব।
২০২৩ সালে ঘটে যাওয়া জয়পুর টেন্ডার সুটকেস হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রিয়া সেঠ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রিয়া ব্যবসায়ী দুশমন শর্মার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন, তাকে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখেছিলেন এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন।পরে তিনি মাত্র ৩ লাখ টাকা নেন এবং ঠান্ডা মাথায় দুশমন্তকে খুন করে মৃতদেহ সুটকেসে ভরে ফেলেন। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।
বর হনুমান প্রসাদ, ২৯ বছর বয়সী, ২০১৭ সালে আলোয়ারে ঘটানো এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, হনুমান পরকীয়ার জেরে এক নারীর স্বামী, তিন সন্তান এবং একজন আত্মীয়সহ মোট পাঁচজনকে হত্যা করেছিলেন।
রাজস্থানের সাঙ্গান ওপেন এয়ার জেলে প্রায় এক বছর আগে এই দুই আসামির দেখা হয়। উন্মুক্ত জেলকোড অনুযায়ী, কয়েদিরা দিনের বেলা বাইরে কাজ করতে পারেন। এই উন্মুক্ত পরিবেশে তাদের মধ্যে প্রেম গড়ে ওঠে। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে তারা লিভিইন সম্পর্কেও ছিলেন।
রাজস্থানের হাইকোর্টের নির্দেশ এবং প্যারল কমিটির অনুমোদনের পর গত বুধবার থেকে তাদের ১৫ দিনের প্যারল শুরু হয়েছে। এই সময় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হনুমানের গ্রামের বাড়ি আলোয়ারে বিয়ের আসর বসছে।
তবে নিহতদের পরিবার এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। তারা প্যারলের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পুনরায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিবারগুলোর অভিযোগ, এ ধরনের হত্যাকারীকে বিয়ের সুযোগ দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবকিছু নিয়ম মেনে করা হয়েছে। প্যারল কমিটি দুই আসামিকে ১৫ দিনের ছুটি দিয়েছে, যা তাদের আইনি অধিকার অনুযায়ী। তবে সমাজের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিতর্ক—“খুনিদের কি এমন সুযোগ দেওয়া উচিত?” এবং “এটি কি ভালোবাসার দ্বিতীয় সুযোগ নাকি ন্যায়বিচারের প্রতি আঘাত?জেল সূত্র জানিয়েছে, এই ধরনের প্যারল ও ছুটি আইন অনুযায়ী দেওয়া হয় এবং এর উদ্দেশ্য হলো কয়েদিদের পুনর্বাসন এবং মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অনেকেই বলছেন, একটা ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের পর এমন সুযোগ দেওয়া ঠিক নয়। অন্যদিকে, কয়েকজন সমর্থন করছেন, মানবাধিকার ও প্রেমের স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।সামাজিক মনোবিজ্ঞানের দিক থেকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলখানার পরিস্থিতিতে যখন কয়েদিরা একে অপরের সঙ্গে বন্ধন গড়ে তোলে, তা কখনও কখনও আবেগীয় সহমর্মিতা ও রিফ্লেকশন হিসেবে দেখা যায়। তবে এটি ন্যায়বিচারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হতে পারে।
এই ঘটনা এখন “টক অফ দ্য কান্ট্রি হিসেবে সামাজিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় আলোচিত। একদিকে আইনের দিক, অন্যদিকে মানবিক ও সামাজিক দিক—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




