ঋণ পরিশোধে ইসলামের শিক্ষা ও ঋণমুক্তির দোয়া
নাজমুল হাসান
মানুষের জীবনে নানা প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কখনো সংসারের খরচ, কখনো চিকিৎসা, আবার কখনো ব্যবসা কিংবা বিপদের সময় অন্যের কাছ থেকে অর্থ ধার করতে হয়। তবে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি তা পরিশোধের দায়িত্বও রয়েছে। ইসলাম ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। এমনকি ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য বিশেষ দোয়াও শিখিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
ঋণ পরিশোধের নিয়ত থাকা জরুরি
ঋণ নেওয়ার সময় তা পরিশোধের আন্তরিক নিয়ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ (ঋণ) পরিশোধের নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে ব্যক্তি তা বিনষ্ট করার নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩৮৭)
অর্থাৎ ঋণ নেওয়ার সময় তা ফেরত দেওয়ার সদিচ্ছা থাকতে হবে। ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করা কিংবা পরিশোধ না করার মানসিকতা রাখা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী।
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে দেরি করা অন্যায়
অনেকে আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে নানা অজুহাতে দেরি করেন। অথচ ইসলাম এ ধরনের আচরণকে অন্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সচ্ছল ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করা জুলুম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪০০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৬৪)
তাই ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকলে অযথা বিলম্ব না করে পাওনাদারের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
অসচ্ছল ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়ার নির্দেশ
ইসলাম ঋণদাতাকে শুধু পাওনা আদায়ের নির্দেশ দেয়নি, বরং ঋণগ্রহীতা প্রকৃত অসচ্ছল হলে তাকে সময় দেওয়ারও শিক্ষা দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে সময় দেওয়া উচিত। আর যদি তোমরা (ঋণ) ক্ষমা করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮০)
অর্থাৎ কেউ সত্যিকার অর্থে ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে তাকে অবকাশ দেওয়া উচিত। আর তার ঋণ মাফ করে দেওয়া আরও উত্তম কাজ।
ঋণমুক্তির জন্য নবীজির শেখানো দোয়া
ঋণের বোঝা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিখিয়েছেন।
দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজজি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালাইদ-দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা, অক্ষমতা ও অলসতা, কৃপণতা ও ভীরুতা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের প্রাধান্য থেকে আশ্রয় চাই। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৫৫)
ঋণ পরিশোধে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ঋণ নেওয়ার আগে পরিশোধের সক্ষমতা ও পরিকল্পনা বিবেচনা করা উচিত। ঋণের পরিমাণ ও পরিশোধের সময় লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা ভালো। সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে হবে। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ সম্ভব না হলে ঋণদাতার সঙ্গে কথা বলে সময় চাওয়া উচিত।
ঋণ মানুষের অধিকারের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং তা পরিশোধে আন্তরিক হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। পাশাপাশি ঋণদাতারও উচিত অসচ্ছল ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।
বাংলা টাইমস ডেস্ক:








