ইরানে আয়াতুল্লাহ উপাধি কেন দেওয়া হয়

বাংলা টাইমস ডেস্ক:

দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।  গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুর পর কে হচ্ছেন পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা- তা আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। একই সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে ‘আয়াতুল্লাহ’ শব্দটি নিয়ে। এটি কি নামের অংশ, নাকি উপাধি? আবার উপাধি হলে এটা কার জন্য প্রযোজ্য?

জানা গেছে, আয়াতুল্লাহ আরবি শব্দ, যার অর্থ আল্লাহর নিদর্শন। এটি ‘শিয়া’ ইসলামে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতাদের একটি সম্মানসূচক উপাধি। এটি কোনো নেতার পদবি বা উপাধি নয়, বরং যেকেউ এর যোগ্য হলে তাকেও এই সম্মান দেওয়া হয়। যেমন বাংলাদেশে বিজ্ঞ আলেমদের মুফতি উপাধি দেওয়া হয়।

১৯৮৯ সালে আলী খামেনি যখন সর্বোচ্চ নেতা হন, তখন তাকেও এ উপাধি দেওয়া হয়।

এছাড়া রাহবার অন্যতম উপাধি। ফারসি ভাষায় এর অর্থ ‘নেতা’। ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রাহবার-ই মোয়াজ্জম’ বা ‘সর্বোচ্চ নেতা’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়।

একই সঙ্গে আলী খামেনি তার নামের আগে ‘সাইয়্যিদ’ ব্যবহার করতেন, যা দিয়ে বোঝানো হয় যে তিনি ইসলামের নবি মুহাম্মাদ (সা.)-এর বংশধর।

আয়াতুল্লাহ উপাধি কাকে দেওয়া হয়

আয়াতুল্লাহ কোনো বংশগত পদবি নয়, বরং এটি অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ ধর্মতাত্ত্বিক ও আইনবিদদের দেওয়া একটি সম্মানসূচক উপাধি।

ইরানে গভীর পাণ্ডিত্য তথা কুরআন, সুন্নাহ, ইসলামি দর্শন এবং যুক্তিবিদ্যায় দীর্ঘকাল (সাধারণত কয়েক দশক) পড়াশোনা ও গবেষণার পর একজন আলেম এ স্তরে পৌঁছান।

ইজতিহাদ করার ক্ষমতাও থাকতে হয়। যখন একজন আলেম ইসলামি সূত্রগুলো বিশ্লেষণ করে স্বাধীনভাবে নতুন কোনো আইনি সিদ্ধান্ত বা ফতোয়া দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন, তখন তাকে ‘মুজতাহিদ’ বলা হয়। এই মুজতাহিদদেরই মূলত ‘আয়াতুল্লাহ’ সম্বোধন করা হয়।

তবে এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নয়, বরং অন্য বরেণ্য আলেম, ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র (যেমন- ইরানের কোম বা ইরাকের নাজাফ) এবং সাধারণ অনুসারীদের কাছ থেকে শ্রদ্ধার মাধ্যমে এ স্বীকৃতি আসে।

এদিকে সাধারণ আলেমদের বলা হয় ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’। আর যারা আরও উচ্চতর পর্যায়ে যান এবং যাদের লাখ লাখ মানুষ অনুসরণ করে, তাদের বলা হয় ‘আয়াতুল্লাহ আল-উজমা’ বা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ।

Share This:
You might also like