আসুন জীবন বাঁচাতে নিজেকে সহায়তা করি

[ বিশেষ সম্পাদকীয় ]

মোঃ কামরুল ইসলাম

লকডাউন কিংবা শাটডাউন যাই হোক না কেনো, সিদ্ধান্তগুলো কার জন্য নিচ্ছে সরকার, একটু ভেবে দেখবেন? আমরা অনেক সিদ্ধান্ত নেই কিন্তু সব সিদ্ধান্তই কি সঠিক হয়, হয় না। মানুষ হিসেবে ভুল ভ্রান্তির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক হচ্ছে নিজের অতীত অভিজ্ঞতা। সরকারের ক্ষেত্রেও তাই। নিজের ভুল থেকে যিনি শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সিদ্ধান্ত নেন তিনি সাধারণত সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।

আজ প্রায় ১৬ মাস হতে চলল করোনা মহামারীতে সারা বিশ্ব আক্রান্ত। প্রথম দিকে কোনো দেশই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলো না। এ ধরনের ভাইরাসের মুখোমুখি পৃথিবীর মানবজাতি কখনো হয়নি। ফলে এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে কিভাবে উদ্ধার পাওয়া যাবে তা সঠিকভাবে কেউ নিরূপন করতে পারছিলো না। মানুষের কাঁধে ভর করে আজ সারা বিশ্ব ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাসের মহামারী অতিমারীতে ইতিমধ্যে আঠারো কোটির অধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। প্রায় চল্লিশ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে মারা গেছেন। যা ইতিপূর্বে কোনো মহামারিতে এতো মানুষের মৃত্যু সারা বিশ্ব চোখে দেখেনি।

করোনা মহামারিতে নিজের দেশের জনগনকে বাঁচিয়ে রাখবার জন্য প্রত্যেকটি সরকার নানাবিধ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে নিজ দেশে আগমন নিষিদ্ধ করছে আবার নিজের দেশ থেকে করোনা প্রাদুর্ভাব যেসব দেশে বেশী সে সব দেশে নাগরিকদের ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। সব নিষেধাজ্ঞাই নাগরিকদের জন্য, তারা যেন কম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকেন। দেশের জনগন যেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হন, সেই জন্যই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিভিন্ন আঙ্গিকে চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকেন। এ সকল নিষেধাজ্ঞা আপনার আমার জন্যই।

একটু চিন্তা করে দেখেন আপনাকে আমাকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য প্রশাসন দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আপনাকে যেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে পারেন সেই জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সারা বিশ্ব থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করছে সরকার। ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীনে অধিদপ্তরসমূহ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর অধীনে বিভিন্ন বিভাগ সমূহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রী কারযালয় সব সময় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারপর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধ করা যাচ্ছে না। প্রতি মূহুর্তে আক্রান্তের হার বেড়েই চলেছে। সাথে মৃত্যু যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

গত বছর করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে আগমনের সময় থেকে সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তের কারনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করেছিলো। ফলে সাময়িকভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটেছে কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করলে করোনায় শিশু মৃত্যুর হার ঠেকানো গেছে, সাথে আক্রান্তের হারও অনেক কম ছিলো। একসময় দেখা গেছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ শহরগুলোতে বেশী আক্রান্ত হচ্ছিল তখন সরকার দেশে সাধারন ছুটি ঘোষণা করে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যেন না ঘটে সেই দিকে সচেষ্ট ছিলো। শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেন মহামারি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেই দিকে বেশী দৃষ্টিপাত করেছিলো। আমাদের বাস্তবতা আমরা জানি, ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে চিকিৎসা সুবিধা বা স্বাস্থ্য সুবিধা যতটুকু আছে দেশের অন্যান্য শহরে সেই সুবিধা নেই। উপজেলা বা থানা সদরে আধুনিক চিকিৎসার পরযাপ্ত সুবিধা নেই। তাই সরকারের পরিকল্পনা ছিলো করোনা ভাইরাস যেন দ্রুত বিস্তার লাভ না করতে পারে। সারা বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে অনেকটা সফল হয়েছিলো।

চলতি বছর করোনার দ্বিতীয় ধাপে কিছুটা ব্যতিক্রম চরিত্র দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বাহিরে বিশেষ করে দেশের সীমানা অঞ্চলের জেলা গুলোতে করোনার প্রাদুর্ভাব অনেক বেড়ে গেছে। সরকার বারবার সতর্ক করছে আমাদের চলাচল সীমিত করনের জন্য কিন্তু আমরা কি শুনছি সরকারের কথা? আমাদের জীবন রক্ষা করার জন্য নানা উপায়ে পরামর্শ দিচ্ছেন কিন্তু আমরা সেইসব পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করছি না। নিজের জীবনকে করোনা ভাইরাসের কাছে স্বেচ্ছায় সমর্পণ করার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছি। এখনো সময় আছে নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন।

শুধু আমাদের জীবন রক্ষা করার জন্য সরকার যেমন ভ্যাকসিন আনার চেষ্টা করছেন তেমনি করোনা বিস্তার রোধ করে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনী পরযন্ত মাঠে নামিয়েছেন। আমরা কতো অসহিষ্ঞু একটু ভেবে দেখবেন? গণ পরিবহন বন্ধ অথচ গত ঈদ-উল ফিতরে প্রায় এক কোটি দশ লক্ষ লোক রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন যা সত্যিই অবাক করার মতো ব্যাপার। সারাদেশে করোনাকে আমরাই ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছি। আসুন না নিজেকে একটু শুধরিয়ে নেই। নিজেকে ভালোবেসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। ঘর থেকে বের না হই। সরকারের সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করি।

পরিশেষে বলতে চাই, কারো জন্য নয় নিজের জন্যই নিজেকে ভালোবাসুন। সরকারের সিদ্ধান্তগুলো মেনে চলুন।

লেখক:
মোঃ কামরুল ইসলাম
মহাব্যবস্থাপক- জনসংযোগ
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স
Islam.kamrul.72@gmail.com

Share This:
You might also like