অস্ট্রেলিয়ায় একই কবরে শায়িত হলেন বাংলাদেশি মা ও দুই সন্তান
Bangla Times Desk:.
সিডনিতে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কামরুন নাহার এবং তার দুই শিশু সন্তানকে লাকেম্বা মসজিদে জানাজা শেষে একই কবরে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় নিহতের স্বামী মোহাম্মদ সুমন আহামেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছে ।
মৃত্যুর পরেও যেন দুই সন্তানকে পরম মমতায় বুকে আগলে রাখলেন মা। ফেসবুকে এক পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়।
মৃত্যুর পরেও যেন দুই সন্তানকে পরম মমতায় বুকে আগলে রাখলেন মা। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কামরুন নাহার এবং তার দুই শিশু সন্তান আয়মান আহমেদ ও আয়াশ আরহানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। চিরদিনের জন্য তাদের স্থান হয়েছে একই কবরে, পাশাপাশি তিনটি কফিনে।
শুক্রবার, ২৯ মে, জুমার নামাজ শেষে সিডনির বিখ্যাত লাকেম্বা মসজিদে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের মরদেহ কেম্পস ক্রিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের শেষ বিদায় জানাতে এসে কান্না ও আহাজারিতে ভেঙে পড়েন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু এবং সহকর্মীরা। পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ও নিস্তব্ধ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বোন ও দুই ভাগ্নেকে শেষ বিদায় দিতে বৃহস্পতিবার, ২৮ মে রাতেই বাংলাদেশ থেকে সিডনিতে পৌঁছান কামরুন নাহারের ভাই। জানাজায় উপস্থিত কমিউনিটির নেতারা বলেন, এই বিদায়ের দৃশ্য দীর্ঘদিন মানুষের মনে দাগ কেটে থাকবে। একই সাথে পারিবারিক সম্পর্ক, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সহায়তার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা।
সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত কামরুন নাহার অস্ট্রেলিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাতে কর্মরত ছিলেন। তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং সন্তানদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ একজন মা ছিলেন। তার বড় ছেলে আয়মান সিডনির একটি পারফর্মিং আর্টস স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। জানাজায় তার কয়েকজন সহপাঠীও অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে, নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাম্পবেলটাউন এলাকার একটি বাড়ি থেকে ৪৬ বছর বয়সী কামরুন নাহার, তার ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়মান এবং ৪ বছর বয়সী ছোট ছেলে আয়াশের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।
এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় নিহতের স্বামী ৪৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ শমন আহামেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, শমন নিজেই জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে ঘটনার তথ্য দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন। আগামী ১৫ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি জানাজানির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা একে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় এবং হৃদয়বিদারক পারিবারিক ট্র্যাজেডি বলে উল্লেখ করেছেন।








