অক্সফোর্ড-কেমব্রিজকে পেছনে ফেলল ইম্পেরিয়াল কলেজ
অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাজ্যের অন্যতম পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ২০২৭ সালের ‘গুড ইউনিভার্সিটি গাইড’-এ বর্ষসেরা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটি অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ—দুই বিশ্ববিদ্যালয়কেই পেছনে ফেলেছে।
দ্য টাইমস ও দ্য সানডে টাইমসের প্রকাশিত এই গাইডে ইম্পেরিয়াল কলেজকে ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়েছে। গতবারের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে এই স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
র্যাঙ্কিংয়েও ইম্পেরিয়াল কলেজের অবস্থান উন্নত হয়েছে। ষষ্ঠ স্থান থেকে উঠে এবার তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কেমব্রিজ চতুর্থ এবং অক্সফোর্ড পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
গুড ইউনিভার্সিটি গাইডের ৩৩ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ শীর্ষ তিনের বাইরে রয়েছে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ আরও দুটি বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্নাতকদের চাকরির সুযোগের দিক থেকে ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য ইয়ার’ এবং চিকিৎসা শিক্ষার জন্য ‘মেডিকেল স্কুল অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছে।
গাইডের হিসাবে, ইম্পেরিয়াল কলেজের ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি বা দ্বিতীয় শ্রেণির উচ্চতর ফল অর্জন করেছেন। আর ৯৩ শতাংশ স্নাতক উচ্চ দক্ষতার চাকরি বা উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার হার ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম বর্ষ শেষ করার পর বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পরের বর্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যান।
জাতীয় র্যাঙ্কিংয়ে এবার প্রথম হয়েছে সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স বা এলএসই।
লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এলএসই প্রথম এবং জাতীয়ভাবে দ্বিতীয়। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মধ্যে দ্বিতীয় এবং জাতীয়ভাবে তৃতীয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন বা ইউসিএল লন্ডনে তৃতীয় এবং জাতীয়ভাবে ১৪তম। কিংস কলেজ লন্ডন লন্ডনে চতুর্থ এবং জাতীয়ভাবে ২৯তম।
লন্ডনের শীর্ষ পাঁচে রয়েছে রয়্যাল হলোওয়ে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন। জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ৩৩তম।
গুড ইউনিভার্সিটি গাইডের সম্পাদক হেলেন ডেভিস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা খাত বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন চাকরির বাজারের মুখোমুখি হচ্ছেন নতুন স্নাতকেরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার হার এবং স্নাতকদের চাকরির সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এই গাইড তৈরি করা হয়।
২০২৭ সালের সংস্করণে যুক্তরাজ্যের ১৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ৭০টি বিষয়ে আলাদা র্যাঙ্কিং এবং গবেষণা, সুযোগ-সুবিধা, বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তার তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ইয়াহু নিউজ








