৬০ দিনের মধ্যে চাকরি না পেলে ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, বিপাকে বিদেশিরা

Bangla Times Desk:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক ছাঁটাইয়ের ঢেউয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তিকর্মীরা। চাকরি হারানোর ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগ না পেলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে তাদের। সম্প্রতি মেটা, অ্যামাজন ও লিংকডইনের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের জেরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন এ ধরনের হাজার হাজার বিদেশি।

শুধু চাকরি হারানো নয়, তাদের জন্য এটি সময়ের বিরুদ্ধেও লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এইচ-১বি ভিসা নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে চাকরি শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় ৬০ দিনের কাউন্টডাউন।

কী এই ৬০ দিনের নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থার (ইউএসসিআইএস) নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীরা চাকরি হারালে সাধারণত ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ পান। এই সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে ভিসা স্থানান্তর করতে হবে অথবা অন্য ভিসা ক্যাটাগরিতে যেতে হবে। তা না হলে দেশ ছাড়তে হয়।
আরও পড়ুন>>যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে ‘না’ বলতে হবে যে ২ প্রশ্নেগ্রিনকার্ডপ্রত্যাশীদের যে নির্দেশ দিলো যুক্তরাষ্ট্র২০২৬ সালে ওয়ার্কিং ভিসার জন্য কোন দেশগুলো সেরা?

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সময় গণনা শুরু হয় কর্মীর শেষ কর্মদিবস থেকে। শেষ বেতন পাওয়ার দিন থেকে নয়। এই নিয়ম অভিবাসী কর্মীদের জন্য নতুন নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে চাকরির বাজার সংকুচিত হওয়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে এআই?
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকেন্দ্রিক পুনর্গঠনে মনোযোগ দিচ্ছে। সম্প্রতি মেটা প্রায় আট হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

ওয়েবসাইট লে-অফস ডট এফওয়াইআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এদের একটি বড় অংশই বিদেশি কর্মী। এর মধ্যে ভারতীয়রা সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনেক বিদেশি কর্মী বছরের পর বছর গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায়। কেউ বাড়ি কিনেছেন। কারও সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছে। ফলে চাকরি হারানো শুধু আয়ের বিষয় নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

বিকল্প পথও কঠিন হচ্ছে
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক কর্মী অস্থায়ীভাবে বি-২ ভিজিটর ভিসায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে অতিরিক্ত কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পাওয়া যায়।

তবে সম্প্রতি এই আবেদনগুলো আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে বলে অভিবাসন আইনজীবীদের দাবি। অতিরিক্ত নথি চাওয়া ও কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা বাড়ছে।

বদলে যাচ্ছে ‘আমেরিকান ড্রিম’
দশকের পর দশক ধরে ভারতীয়দের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ছিল উচ্চ বেতন, কর্মজীবনে উন্নতি ও বৈশ্বিক সুযোগের প্রতীক। কিন্তু এখন বারবার ছাঁটাই, ভিসানির্ভরতা ও এআইচালিত পরিবর্তন অনেককে নতুন করে ভাবাচ্ছে। একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, চাকরি হারালে প্রায় অর্ধেক ভারতীয় কর্মী দেশে ফেরার কথা ভাবছেন। কেউ কেউ কানাডা ও ইউরোপকেও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।

Share This:
You might also like