সাবেক মন্ত্রী মোশাররফের জানাজায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আওয়ামী লীগের ১৯ নেতাকর্মী কারাগারে

Bangla Times Desk:

চট্টগ্রাম নগরীর জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ মাঠে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

একইসঙ্গে এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মো. মহিউদ্দিন (৩৯), মো. সুমন (২৪), মো. ইমন (২৩), মো. মুর্তুজা মেহেদী ওরফে মেহেদী হাসান (২২), মো. বশর প্রকাশ হাসান (২৪), মো. সজিব (২৭), মো. মুসা (৪২), মো. সোহেল (২৮), মো. মনির (৩৭), রায়হান (২৯), ইলিয়াছ প্রকাশ মিলন (২৬), মো. জাহিদুল হক প্রকাশ সোহাগ (২৪), মো. শাহিন (২৭), মো. শরীফ (২০), মো. ছোটন প্রকাশ রাকিব মিয়া (২৮), আলামিন (২৪), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৯), মো. রাসেল (২৫) ও মো. জয়নাল (২২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নগরের জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ মাঠে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে হঠাৎ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নগরীর প্রধান সড়কে নেমে আসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এদিকে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল ছিল এবং তারা নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানার মামলা নম্বর-২৭, তারিখ ১৫ মে ২০২৬, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

একইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে ১৫টি ভাঙা ইটের টুকরা ও আটটি কাঠের লাঠি জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া সিডিএমএস পর্যালোচনায় গ্রেপ্তার কয়েকজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, ছিনতাই, চুরি ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, জানাজা শেষে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্লোগান দিয়ে জনসাধারণের ক্ষতি করার চেষ্টাকালে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা রয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Share This:
You might also like