পর্তুগালের কঠোর নাগরিকত্ব আইনের অফিশিয়াল গ্যাজেট প্রকাশ

‎bangla times desk;

পর্তুগালে ১৮ মে ঘোষিত কঠোরতম নাগরিকত্ব আইনের অফিশিয়াল গ্যাজেট চূড়ান্ত প্রকাশ; পাসপোর্ট পাওয়ার ন্যূনতম সময়সীমা ৫ বছর থেকে বেড়ে এখন ১০ বছর!
‎ ফাইল জমার তারিখ বাতিলের চূড়ান্ত সিলমোহর; রেসিডেন্স কার্ড ইস্যুর দিন থেকেই গণনা করা হবে বসবাসের নতুন সময়কাল।

‎ইউরোপের দেশ পর্তুগালে অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়ার শর্ত নজিরবিহীনভাবে কঠোর করে যে নতুন আইনটির ঘোষণা গত ১৮ মে করা হয়েছিল, গত ৪ জুন, ২০২৬ তারিখে তার অফিশিয়াল গ্যাজেট চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এই গ্যাজেট প্রকাশের মাধ্যমে এখন থেকে অধিকাংশ বিদেশী নাগরিককে পর্তুগিজ নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য অন্তত ১০ বছর বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করতে হবে। এর আগে এই প্রয়োজনীয় বসবাসের সময়সীমা ছিল মাত্র পাঁচ বছর, যা এখন আইনিভাবে একলাফে দ্বিগুণ হয়ে গেল। তবে নতুন আইনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশগুলোর সংগঠন ‘সিপিএলপি’-এর সদস্য দেশের নাগরিকদের জন্য কিছুটা আলাদা শর্ত রেখে ন্যূনতম সাত বছর বৈধভাবে বসবাসের নিয়ম করা হয়েছে।

‎⏱️ সময় গণনার প্রশাসনিক নিয়মে চূড়ান্ত সিলমোহর:
‎এই অফিশিয়াল গ্যাজেট প্রকাশের ফলে সময় গণনার বিতর্কিত প্রশাসনিক পরিবর্তনটি এখন থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এখন থেকে নাগরিকত্বের জন্য বসবাসের সময়কাল কেবলমাত্র রেসিডেন্স পারমিট বা রেসিডেন্স ইস্যু হওয়ার চূড়ান্ত তারিখ থেকে গণনা করা হবে। অতীতে আবেদন বা ফাইল জমা দেওয়ার তারিখ থেকে সময় গণনার যে বিশাল সুযোগ প্রবাসীরা পেতেন, তা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। অত্যন্ত কঠোর এই নতুন আইনে পর্তুগালে ইতিমধ্যে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সুবিধা বা বিশেষ ছাড় রাখা হয়নি। ফলে যারা আগের পাঁচ বছরের নিয়ম মাথায় রেখে নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন, তাদের অনেককেই এখন নতুন ১০ বছরের দীর্ঘ সময়সীমার গ্যাঁড়াকলে পড়তে হচ্ছে।

‎🔥 গোল্ডেন ভিসা ও ডি৭-ডি৮ প্রবাসীদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি:
‎গ্যাজেটটি অফিশিয়ালি বাজারে আসার পর বিশেষ করে ডি৭, ডি৮ এবং গোল্ডেন ভিসার আওতায় থাকা উচ্চপদস্থ অভিবাসী ও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আকস্মিক এই পরিবর্তনের কারণে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এই আইনের বিরুদ্ধে সরাসরি পর্তুগিজ আদালতে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি পর্তুগালে বসবাসের মাঝপথে সিপিএলপি দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করলে ১০ বছরের পরিবর্তে ৭ বছরের সুবিধা পাবেন কি না—তা নিয়ে পুরো কমিউনিটিতে বড় ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আইনজীবীদের মতে, প্রথম রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার তারিখ থেকেই সময় গণনা শুরু করে তারা ৭ বছরের সুবিধা পেতে পারেন; তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।

‎⚖️ সাংবিধানিক আদালতের আপত্তির পর সংশোধিত গ্যাজেট প্রকাশ:
‎এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্তুগালের সাংবিধানিক আদালত নাগরিকত্ব বাতিল ও ফৌজদারি দণ্ড সংক্রান্ত কয়েকটি ধারাকে সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে বিলটি পার্লামেন্টে ফেরত পাঠিয়েছিল। পরে তা সংশোধন করে গত মে মাসে ঘোষণা আসে এবং ৪ জুন এর চূড়ান্ত গ্যাজেট কার্যকর করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দ্রুত ইউরোপীয় পাসপোর্ট পাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করে যারা দীর্ঘমেয়াদে পর্তুগালে থাকতে চান, তাদের উৎসাহিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিসহ হাজার হাজার রেমিট্যান্স যোদ্ধার ইউরোপের পাসপোর্ট পাওয়ার স্বপ্ন এক ঝটকায় অনেক দূরে সরে গেল।

 

Share This:
You might also like