নেপালে প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে র‌্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র

নেপালের সাধারণ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে র‌্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহর দল। যেসব আসনের প্রাথমিক ফল পাওয়া গেছে তার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে দলটি, যা গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে পেছনে ফেলেছে।

রাজধানী কাঠমাণ্ডুর সাবেক মেয়র ৩৫ বছর বয়সী শাহ নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে প্রাধান্য পেয়েছেন। যুব নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর তিনি পুরো হিমালয় অঞ্চলের এই দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায় রকস্টারসম জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে শাহর দলের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর ৩৩ বছর বয়সী দীপক অধিকারী বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টিকে ভোট দিয়েছি, কারণ সেখানে বালেন আছেন।’

জনপ্রিয় নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং দেশকে সমৃদ্ধ করবেন।’

তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত  শাহর মধ্যপন্থী রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৬৫টি আসনের মধ্যে ৫২টিতে এগিয়ে ছিল, যেগুলোর প্রাথমিক ফল পাওয়া গেছে।

নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হচ্ছে এবং বাকি আসনগুলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে।

প্রাথমিক প্রবণতায় দেখা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) চারটি আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং দেশের প্রাচীনতম দল নেপাল কংগ্রেস ছয়টি আসনে এগিয়ে।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিশাল জনসমাগম টানা শাহ ভারতীয় সীমান্তের কাছে ঝাপা–৫ আসনে ওলির নিজস্ব নির্বাচনী এলাকাতেই তার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরাসরি নির্বাচনের ফল শুক্রবার সন্ধ্যা বা শনিবারের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।

শাহ যদি ক্ষমতায় যেতে পারেন, তবে তা হবে এমন এক ব্যক্তির নাটকীয় উত্থান, যিনি প্রতিষ্ঠানের সমালোচনামূলক র‌্যাপ সংগীতের মাধ্যমে জনপরিসরে পরিচিতি পান এবং সেই জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক উচ্চপদে পৌঁছানোর জন্য কাজে লাগাতে চান।

চীন ও ভারতের মাঝখানে অবস্থিত প্রায় তিন কোটি মানুষের দেশ নেপালে কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও ব্যাপক দুর্নীতিতে জর্জরিত প্রধানত কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সংঘর্ষ ও প্রাণহানির পর শেষ পর্যন্ত ওলিকে পদত্যাগ করতে হয়।

 

Share This:
You might also like