ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সুখবর
ডেস্ক রিপোর্ট
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগীদের প্রতিদিন একাধিকবার আঙুলে সুচ ফুটিয়ে রক্তের শর্করা পরীক্ষার কষ্টকর প্রক্রিয়া মেনে চলতে হয়। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও জটিলতা এড়াতে এই পরীক্ষাটি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাধা দূর করতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) বিজ্ঞানীরা এক যুগান্তকারী যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, যা আলোর তরঙ্গ ব্যবহার করে ত্বকের ওপর হাত রাখলেই রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে পারে। ফলে আঙুলে সুচ ঢুকিয়ে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে না ডায়াবেটিক রোগীদের।
নতুন এই উদ্ভাবনটির বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট্রি সাময়িকীতে। নতুন যন্ত্রটির বিষয়ে এমআইটির বিজ্ঞানী জেওন উওং ক্যাং জানান, প্রতিদিন বারবার সুচ ফোটানো যে কতটা অস্বস্তিকর, তা রোগীরা ভালোই জানেন। এই অস্বস্তির কারণে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত শর্করা পরীক্ষা করেন না, ফলে বাড়ে জটিলতার ঝুঁকি। আলোভিত্তিক এই নতুন প্রযুক্তি তাদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে আসতে পারে। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চালানো গবেষণার ফল এটি।
২০১০ সালে এমআইটির লেজার বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের প্রকৌশলীরা প্রথম দেখান যে, রামান স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে গ্লুকোজ শনাক্ত করা সম্ভব।
এই পদ্ধতিতে অণুগুলো কীভাবে আলোকে বিচ্ছুরিত করে, তা বিশ্লেষণ করে গ্লুকোজের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। ত্বকের ওপর কাছাকাছি-ইনফ্রারেড ও দৃশ্যমান আলো ফেলে সেই সংকেত সংগ্রহ করা হয়, যা তরলে গ্লুকোজ শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
২০২০ সালে এ ধারণা আরও উন্নত করা হয়। কাছাকাছি-ইনফ্রারেড আলোর ভিন্ন কোণে ফেলা রশ্মির সঙ্গে রহমান আলো মিলিয়ে গ্লুকোজের সংকেত আলাদা করার নতুন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়, যা ত্বকের অন্যান্য অণুর প্রভাব ফিল্টার করে দেয়। ফলে গ্লুকোজের তথ্য আরও নির্ভুলভাবে পাওয়া যায়।
আগের যন্ত্রটির আকার ছিল প্রায় একটি প্রিন্টারের মতো বড়। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এর আকার কমিয়ে এনেছেন জুতার বাক্সের মতো ছোট করে। গবেষক আরিয়ানা ব্রেসি জানান, এখন তারা মাত্র তিনটি সংকেত ব্যান্ডের ওপর মনোযোগ দিচ্ছেন এবং যন্ত্রটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই ফল জানাতে সক্ষম।
নতুন এই আবিষ্কার ডায়াবেটিক রোগীদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে দিতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




