ট্রেনে ঢাকা থেকে কলকাতা এবার মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায়!
Bangla News: সুকুমার রায়ের ‘হযবরল’ গল্পে কাকটি যে হিসাব দিয়েছিল তাতে মাত্র দেড় ঘণ্টায় কলকাতা থেকে তিব্বত পৌঁছে যাওয়া যায়। ‘কলকাতা, রানাঘাট, ডায়মন্ড হারবার, তিব্বত। ব্যাস!’ সে তো গল্পের হিসেব। কতকটা তেমনটাই ঘটতে চলেছে। এবার ঢাকা থেকে আসা যাবে কলকাতা। সময় লাগবে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই হতে চলেছে। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র বছর তিনেক।
মূলত চিকিৎসার কারণে বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ কলকাতা যান। এছাড়াও আরও নানা কারণেই যেতে হয় ওপার বাংলায়। ঢাকা থেকে কলকাতা বাস থাকলেও, বেশিরভাগ মানুষের পছন্দ রেলপথ। কারণ, সড়কপথে যেতে প্রায় সারাদিন লেগে যায়। সঙ্গে থাকে পদ্মাতীরে ফেরির জন্য দীর্ঘ লাইনের অপেক্ষা। বর্তমানে ‘মৈত্রী এক্সপ্রেসে’ কলকাতা থেকে ঢাকা যাতায়াতে সময় লাগে কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা।
এই দূরত্ব কমাতে পদ্মা নদীর উপরে তৈরি করা হচ্ছে সেতু। বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প চালুর পর ঢাকা-কলকাতার যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে। এখন যেখানে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে তিন বছর পর সেখানে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় ঢাকা থেকে কলকাতায় পৌঁছানো যাবে। তাঁরা জানান, বর্তমানে কলকাতা থেকে গেদে এবং গেদে হয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত স্টেশন দর্শনা পার হয়ে ঢাকায় অবস্থিত ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছায় মৈত্রী এক্সপ্রেস। এই রুটে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার রেলপথ পাড়ি দিতে হয়।
পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে কলকাতা স্টেশন থেকে বনগাঁ জংশন হয়ে হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বেনাপোল হয়ে যশোর, নড়াইল, ফরিদপুরের ভাঙা হয়ে ঢাকা পৌঁছতে পারবে ট্রেনটি। এই রুটের দূরত্ব দাঁড়াবে প্রায় ২৫১ কিলোমিটার। যা পার করতে মৈত্রী এক্সপ্রেসের গতিতে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়।
পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে কলকাতা স্টেশন থেকে বনগাঁ জংশন হয়ে হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বেনাপোল হয়ে যশোর, নড়াইল, ফরিদপুরের ভাঙা হয়ে ঢাকা পৌঁছতে পারবে ট্রেনটি। এই রুটের দূরত্ব দাঁড়াবে প্রায় ২৫১ কিলোমিটার। যা পার করতে মৈত্রী এক্সপ্রেসের গতিতে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়।
বাংলাদেশ সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাওয়া-জাজিরার মধ্যে অবস্থিত মূল সেতুর কাজ এগিয়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮৬ শতাংশ। দোতলা মূল পদ্মা সেতুর নীচ দিয়ে হচ্ছে রেলপথ। প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা।




