জয়ের পর ‘ধুম মাচালে’ গানে মাতলেন মামদানি, ট্রাম্পকে বললেন ‘ভলিউমটা বাড়াও!’
অনলাইন ডেস্ক:
নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি জয়লাভ করে শহরের প্রথম মুসলিম ও সবচেয়ে তরুণ মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সী মামদানি পরাজিত করেছেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
জয়লাভের পর উদযাপনের মুহূর্তে বলিউডের জনপ্রিয় গান ‘ধুম মচালে’ বাজছিল ভেন্যুতে। উপস্থিত জনতার সঙ্গে উদ্দীপ্ত মামদানি তখন মজার ছলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ভলিউমটা বাড়াও!”
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মামদানির এই বিজয় শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছে। তিনি রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়াকেও পরাজিত করেছেন। শহরের বিদায়ী মেয়র এরিক অ্যাডামস গত সেপ্টেম্বর পুনর্নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ালেও তার নাম ব্যালটে রয়ে গিয়েছিল। এখন মামদানি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
গত কয়েক মাস ধরে মামদানি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের পর এই ফলাফল জাতীয় পর্যায়ে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, মামদানি জয়ী হলে নিউইয়র্কের জন্য কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেবেন।
মামদানির প্রচারণা ছিল সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও জনমুখী। জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসস্থান এবং শ্রমিক অধিকার—এসব ইস্যুতে তার সরাসরি অবস্থান সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর মন জয় করে। তার নির্বাচনী প্রচারণা শহরে এক ধরনের নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল।
এদিকে ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্র্যাট অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গার সহজ জয় পেয়ে রাজ্যের প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। একই দিন নিউ জার্সিতেও ডেমোক্র্যাট মিকি শেরিল গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন।
এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নির্বাচনী ফল ডেমোক্র্যাট দলের জন্য ছিল এক প্রকার রাজনৈতিক পরীক্ষার মতো, বিশেষ করে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক বছর আগে। যখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে নতুন লড়াই শুরু হবে।
গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর থেকে ওয়াশিংটনে ক্ষমতার বাইরে থাকা ডেমোক্র্যাটরা এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই যেন তাদের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের নতুন দিকনির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছে। মামদানির বিজয় তাই শুধু একটি শহরের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রগতিশীল রাজনীতির এক নতুন সূচনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

