চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই জুলাই আদেশ চূড়ান্ত
সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট
মনির হোসেন
প্রকাশ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক দলগুলোর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি করতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে আদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামীকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ ব্যাপারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আদেশে স্বাক্ষর করতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা সমঝোতায় আসতে না পারায় সরকারকে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার। তিনি বলেন, ‘সব দলের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করেছি। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, ভালো কিছু হবে। আশা করি, সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত সব দল মেনে নেবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সনদ বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান দেখালেও পর্দার আড়ালে কিছুটা নমনীয় হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এর বাইরে তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। তবে প্রকাশ্যে বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি অবস্থানে। মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে সমাবেশ করে জামায়াতসহ ৮টি ইসলামি দল। সেখানে ঘোষণা দেওয়া জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া ২০২৬ সালে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, জুলাই বাস্তবায়নে ২৮ অক্টোবর সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার একটি আদেশ জারি করবে। কিন্তু আদেশ জারির আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গত ৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর আহ্বান করা হয়। কিন্তু দলগুলো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। প্রকাশ্যে তারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।
বিএনপি বলছে, সংস্কার ও গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট হতে পারবে না। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্যে অবস্থান এবং পর্দার আড়ালে কথাবার্তা এক নয়। সামনে ভোট। তাই মাঠ চাঙা রাখতে প্রকাশ্যে এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে কথা বলছে। কিন্তু কখনোই এটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যাবে না। কারণ সংকট বাড়লে, এর সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পরিণতি কী হতে পারে সেটি অবশ্যই তাদের বিবেচনায় রয়েছে। সূত্র আরও জানায়, এই সনদ নিয়ে শুরুতে উপদেষ্টা পরিষদ দ্বিধাবিভক্ত ছিল। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার প্রধান উপদেষ্টার কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের জন্য কয়েকজন উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান অন্যতম। ফলে নতুন করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আর আনুষ্ঠানিক বৈঠক হচ্ছে না।




