আয়েশারা মারা যায় বিস্তৃত আকাশের নিচে, নীল জলের বুকে

কাজী মনজুরুল ইসলাম:

সাগর বেষ্টিত দ্বীপ। সেখানে এক নারী করোনা আক্রান্ত। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমছে, বাড়ছে শ্বাসকষ্ট। শিগগিরই আইসিইউ দরকার। কিন্তু এই দ্বীপে নেই ভালো মানের কোনো সরকারি হাসপাতাল, আইসিইউ তো স্বপ্ন। ডাক্তার বললেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত দ্বীপের বাইরে নিতে। ঢাকা পোস্ট।

রোগী নিয়ে দ্বীপ পাড়ি দেওয়া সহজ নয়। দ্বীপে দুটি সরকারি ‘সি অ্যাম্বুলেন্স’ আছে বটে। কিন্তু তার জন্য তেলের বরাদ্দ নেই। নেই কোনো চালক।

নারীর অবস্থা গুরুতর হচ্ছে। সাগরের ঢেউ ভেঙে ঝুঁকি নিয়ে যেতে চাইছে না স্পিডবোট ও ট্রলার। অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর একজন দয়া করেন। সাত হাজার টাকায় রিজার্ভ করা স্পিডবোট রওনা হলো চট্টগ্রামের উদ্দেশে। ঢেউ ভেঙে অথৈ সাগরে ছুটে চলা। স্পিডবোটে বসে থাকার মতো শারীরিক অবস্থা কি করোনা রোগীর থাকে? স্বজনরা প্রাণপণে দোয়া করছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

বিস্তৃত আকাশের নিচে, নীল জলের বুকে ভাসতে থাকা স্পিডবোটে মারা গেলেন আয়েশা বেগম নামের ওই নারী। বাড়ি তার সন্দ্বীপ, চট্টগ্রামের সাগর বেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা।

সন্দ্বীপে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাস। অথচ দ্বীপটিতে নেই ভালো মানের কোনো সরকারি হাসপাতাল। নেই আইসিইউ শয্যা। চট্টগ্রাম নগরীতে রোগী আনার জন্য নেই কোনো সরকারি ব্যবস্থাও। সরকারের পক্ষ থেকে সাগরপথে রোগী বহনের জন্য দুটি ‘সি অ্যাম্বুলেন্স’ দেওয়া হলেও কোনোটিরই সুফল পায়নি সন্দ্বীপবাসী।

আয়েশা বেগমের আত্মীয় তারেক বলেন, আমার কাকীমা (আয়েশা) করোনা আক্রান্ত ছিলেন। ৩ আগস্ট হঠাৎ তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা চট্টগ্রাম নগরীতে নিতে বলেন। সাত হাজার টাকায় স্পিডবোট রিজার্ভ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা করি। কিন্তু মাঝপথে মারা যান কাকী। আমরা ভাসতে থাকি- অসহায়। আমার মনে হয়, আমাদের মতো একই রকম অসহায়তার অনুভূতি পুরো সন্দ্বীপবাসীরই।

তিনি বলেন, সরকারি একটি ‘সি অ্যাম্বুলেন্স’ চালু থাকলে হয়তো কাকীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারতাম। স্পিডবোটে তো রোগীকে বসিয়ে নিতে হয়। রোগীর জন্য সেটা কষ্টকর।

তিনি আরও বলেন, দিনে তবু স্পিডবোট পাওয়া যায়। রাতে পাওয়া যায় না কিছুই। সরকার একটি ভালো মানের ‘সি অ্যাম্বুলেন্স’ দিলে মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে।

 

Share This:
You might also like