অসম্পূর্ণ সিনেমা ইউটিউবে মুক্তি, ক্ষোভ শাবনূরের

ডেস্ক রিপোর্ট

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছেন ঢালিউডের একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। বর্তমানে অভিনয়ে নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যেই দেশে এসে কাজ নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। এমনকি কখনো কখনো নতুন কাজে যুক্ত হওয়ার খবর জানিয়ে আনন্দ ছড়িয়ে দেন ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী মহলে।

হঠাৎ করেই বছর দুয়েক আগে ঘোষণা আসে সিনেমায় ফিরছেন এক সময়ের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়িকা। এরপর গেল বছর বেশ ঘটা করেই মহরত হয়েছিল ‘রঙ্গনা’ সিনেমার। শাবনূর দেশে এসে পুবাইল ও ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ছবিটির বেশির ভাগ শুটিং করেন।

তবে বাকি শুটিং শেষ না করেই অস্ট্রেলিয়া চলে যান অভিনেত্রী। কথা ছিল, অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে শুটিং করবেন। এরমধ্যেই দেখা গেল সিনেমার শুটিং হওয়া অংশটুকু ইউটিউবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আরাফাত হোসেন পরিচালিত ছবিটি প্রযোজনা করেছেন মৌসুমী মিথিলা।

সিনেমাটি ইউটিউবে মুক্তি দেওয়ায় এবং পরিচালক-প্রযোজকের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলে এবার ক্ষোভ ঝাড়লেন ছবিটির নায়িকা শাবনূর।

 

শুক্রবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আজকের চলচ্চিত্র জগতে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মানের অভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। দক্ষ পরিচালক ও পেশাদার প্রযোজকের অভাবে মানসম্মত সিনেমা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে শিল্পের মূল্য না বুঝে সহজ পথ বেছে নিচ্ছেন, ফলে নষ্ট হচ্ছে চলচ্চিত্রের মান, আর শিল্পীরা হারাচ্ছেন তাদের প্রাপ্য সম্মান।’

এরপর সিনেমাটি প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, ‘আপনাদের অনেকেই জানেন, আমি “রঙ্গনা” সিনেমায় অভিনয় করতে সম্মত হয়েছিলাম। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছবিটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়, এবং সবাই তখন এ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিল। মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে আমিও আশাবাদী ছিলাম যে নতুনদের সাথে কাজ করছি, নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে। মহরতের কিছুদিন পর দেশে ফিরে আমি প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও কয়েকদিন শুটিং করি। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে তখন ছবিটির কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রযোজকের সঙ্গে আমার কথাবার্তা ছিল, দেশে ফিরে বাকি অংশের শুটিং শেষ করে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হবে।’
প্রযোজনা ও পরিচালনার সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা শুরু থেকেই অপেশাদারসুলভ আচরণ করেছেন জানিয়ে এই নায়িকা বলেন, ‘কাজ শুরুর আগেই তারা একটি নিম্নমানের পোস্টার প্রকাশ করে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়। শুটিং চলাকালেও ইউনিটে ছিল অগোছালোভাব ও অব্যবস্থাপনা। আমাকে শুরুতে বলা হয়েছিল, কিছু দৃশ্য ও গান বিদেশে শুট হবে এবং এডিটিংও হবে দেশের বাইরে, কিন্তু বাস্তবে তাদের কথার কোনো প্রতিফলন দেখিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবুও আমি আমার প্রতিশ্রুতি রাখতে চেয়েছিলাম এবং ডিসেম্বরে বাকি শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ দেখি, সিনেমার অসম্পূর্ণ ফুটেজ ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছে! যে সিনেমা বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা, সেটি এখন বিনামূল্যে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে! আমি বড় পর্দার অভিনেত্রী। আমার কাজ ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখানোর জন্য নয়। যদি আমি আগে জানতাম এই প্রজেক্টটি সিনেমাহলের বদলে ইউটিউব কনটেন্ট হিসেবে প্রকাশিত হবে, তবে আমি কখনই এতে অংশ নিতাম না।’

শাবনূরের দেশে না ফেরা নিয়ে মাঝে গুঞ্জন উঠেছিল। ‘সেসময় এও চাউর হয়েছিল ছবিটিতে আর অভিনয় করবেন না তিনি। সে প্রসঙ্গ তুলে নায়িকা বলেন, আমি কখনোই বলিনি যে “রঙ্গনা” ছবিতে আর কাজ করব না। তাহলে কেন আমার অনুমতি ছাড়াই ছবির অসম্পূর্ণ ক্লিপগুলো ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশ করা হলো? এখন আবার বলা হচ্ছে, পুরনো সব দৃশ্য বাদ দিয়ে নতুন করে শুটিং হবে, যা একদমই গ্রহণযোগ্য নয়।’

দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শাবনূর। সবশেষ তিনি লিখেন, ‘এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও হতাশ। আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ও পেশাগত মর্যাদা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, পুরো বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও এক দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক ঘটনা। আমার অসংখ্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই ঘটনার প্রতি যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা সবসময় আমার পাশে থেকেছেন, তাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও প্রেরণাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’

Share This:
You might also like