শ্রীনগরে শাপলা বিক্রি করে চলে আবুলের সংসার

প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২১

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মহামারি করোনাকালীন সময়ে কর্মহীন আবুল হোসেনের (৬০) সংসার চলছে শাপলা বিক্রি করে। এর আগে তিনি কৃষি কাজসহ বিভিন্ন কাজকর্মে নিজের শ্রম বিক্রি করতেন। তবে করোনায় শ্রম সুযোগ না থাকায় বর্ষার সিজনে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস তিনি বিভিন্ন বিল ও জলাশয় থেকে শাপলা কুড়িয়ে তা বিক্রি করে আয় রুজী করেন। এ সময় তিনি অন্য কোন সবজি বিক্রি করেন না। বিনা পূঁজিতে শ্রম খাটিয়ে কুড়ানো শাপলা বিক্রি করেই ভাল কামাই হচ্ছে তার। প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রীনগর উপজেলার হরপাড়া এলাকার ডাকা বাংলা মাকের্টের সামনে এসে ভ্যানে করে এসব শাপলা বিক্রি করছেন। ১০ থেকে ১২টি শাপলায় একেকটি আটি বাঁধা হয়েছে। প্রতি আটি শাপলা বিক্রি করা হচ্ছে ১০ টাকায়। পথচারী ও এলাকাবাসী পছন্দের শাপলা কিনে নিচ্ছেন।
এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে বিখ্যাত আড়িয়ালবিল এলাকায়ও শাপলা বিক্রি করে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার চলছে। তারা বিল থেকে ছোট ছোট কোষা নৌকায় করে শাপলা কুড়িয়ে দিন পাড় করছেন। এসব শাপলা বিক্রি করছেন স্থানীয় শাপলার পাইকারদের কাছে। ৬০/৭০টি শাপলায় প্রতি আটি করা হচ্ছে। পাইকাররা প্রতি আটি শাপলা ক্রয় করছেন ১২ টাকায়। দিনের কয়েক ঘন্টা শাপলা কুড়িয়ে একেকজন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা রোজী হচ্ছে। ক্রয়কৃত এসব শাপলা পিকআপে ভর্তি করে ঢাকার বিভিন্ন পাইকারী বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন পাইকাররা। উপজেলার গাদিঘাট, হাঁসাড়া, ষোলঘর, আলামপুর, বাড়ৈখালী এলাকা থেকে প্রতিদিন ১০/১২ ট্রাক শাপলা যাচ্ছে ঢাকায়।
আবুল হোসেনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তরকারি হিসেবে শাপলা বেশ সুস্বাদু হওয়ায় মানুষের কাছে শাপলা দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এলাকায় চাহিদা থাকায় দৈনিক প্রায় শতাধিক আটি শাপলা বিক্রি হচ্ছে তার। শাপলা বিক্রি করে করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় হাজার টাকা রোজী হচ্ছে তার।
শ্রীনগর সদর ইউনিয়নের হরপাড়া এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল সালাম জানান, বৃদ্ধ আবুল হোসেন প্রতিদিন সকালে বিল থেকে শাপলা কুড়িয়ে আনেন। ডাকবাংলা মার্কেটের সামনের রাস্তায় তা দিনব্যাপী বিক্রি করেন। বছরের এই সময়ে আবুল হোসেন বিনা পুজিতে শাপলা বিক্রি করে সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। আবুল হোসেনের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি শ্রীনগরে থাকছেন। স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাসহ ৪ সদস্যের সংসার তার।

শ্রীনগর,মুন্সীগঞ্জ
০৭/০৮/২১ইং