শ্রীনগরে রাঢ়িখাল ইউনিয়ন আ’লীগের সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২১

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: দ্বিতীয় ধাপে শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়ন পরিষদ
নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল বারেক খান বারীর
নৌকা প্রতীককে ভোটে পরিজিত করার লক্ষ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান
হারুন উর রশিদের আনারস প্রতীককে ভোটে বিজয়ী করতে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ
উঠেছে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ বেপারীর বিরুদ্ধে। এনিয়ে দলীয়
নেতাকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, নৌকা ডুবানোর ষড়যন্ত্র করে হানিফ বেপারী স্বত্রন্ত্র প্রার্থী
হারুন উর রশিদের পুত্র নজরুল ইসলাম লিটুর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে মোট ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা
গ্রহন করেন। ইউনিয়নটিতে মোট ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন।
এরমধ্যে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক খান বারী নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪৭৭২ পেয়ে
বিজয়ী হন। তার নিকটম প্রতিদ্বন্দ্বি আনারসের প্রার্থী হারুন উর রশিদকে ৩৯৫০ ভোট পান।
৮২২ ভোটের ব্যবধানে নৌকা জয়লাভ করে। আনারস পরিজিত হওয়ার পর থেকে হানিফ বেপারীর টাকা
নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও হানিফ বেপারীকে নৌকার বিপক্ষে
অবস্থান করতে দেখা গেছে।
আর্থিক সুবিধা নেওয়া অভিযোগ এনে ফেইসবুকে তুহেল খান নামে এক যুবলীগ নেতা
স্ট্যাটাস দিয়েছেন নৌকার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ
বেপারী আনারসের পক্ষে কাজ করার জন্য টাকা নিয়েছে। হানিফ বেপারীর পদত্যাগ চাই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাচনের দুই দিন আগে যশলদিয়া এলাকায় মাঝি বাড়িতে প্রথম
ধাপে শাহা আলম, বাবু খান ও কামাল মুন্সীর উপস্থিতিতে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয় হানিফ
বেপারীকে। পরে দুই ধাপে আরো ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা হানিফ বেপারী তার লোকজনের মাধ্যমে
নেন।
রাঢ়িখালের আনারস প্রতীকের প্রার্থী হারুন উর রশিদের পুত্র নজরুল ইসমলাম লিটুর কাছে এ
বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, মিথ্যা বলবো কেন? আমার
বাবাকে বিজয়ী করতে হানিফ বেপারী প্রস্তাব নিয়ে আসলে বন্ধু নয়ন মাঝির বাড়িতে বসে
আলোচনা শেষ করি। পরে ওই রাতেই ৫ লাখ টাকা দেই হানিফ বেপারীকে। বাকি ১ লাখ ৭০ হাজার
টাকা তার লোকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।
টাকা নেওয়ার বিষয়টি হানিফ বেপারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নৌকার পক্ষে
কাজ করেছি। অন্য কোন প্রার্থীর কাছ থেকে আমি কোন টাকা গ্রহন করি নাই। আমার
বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী তোফাজ্জল হোসেনের কাছে জানতে
চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছেও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়য়ে একজন অভিযোগ
করেছেন। এবিষয়ে আমি হানিফ বেপারীকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে টাকা নেওয়ার বিষয়টি
অস্বীকার করেন। যদি প্রমান পাওয়া যায়, তাহলে হানিফ বেপারীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীনগর,মুন্সীগঞ্জ
১৪/১১/২১ইং