শ্রীনগরে নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর গৃহবধুর কঙ্কাল উদ্ধার

প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২১

সফিকুল ইসলাম তাপস:-শ্রীনগর মুন্সিগঞ্জ নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর এক গৃহবধুর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার হাঁসাড়গাও এলাকা
থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। এসময় কাঙ্কালের পাশে
থাকা সেন্ডেল,চুলের ব্যান্ড ও জামা দেখে অরিন নামে এক
স্কুল ছাত্রী সনাক্ত করেন কঙ্কালটি তার মা কুলসুম বেগমের
(৩৫)।
স্থানীয়রা জানায়, কুলসুম বেগম হাঁসাড়গাও গ্রামের
ইকবাল শেখের স্ত্রী। গত ১৯ ডিসেম্বর ইকবাল ৫ বছরের এক
মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার হয়। সে
এখনো জেল হাজতে রয়েছে। ইকবাল জেলে যাওয়ার পর পরই
কুলসুম বেগম তার বাবার বাড়ী উপজেলার রুসদী গ্রামে
চলে যায়। তার ছেলে অয়ন(২০) মানিকগঞ্জ থাকে। মেয়ে
অরিন বেলতলী জিজে উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী।
কুলসুম বেগমের ননাশ হাসিনা বেগম জানান, কুলসুম
বেগম কবে নিখোজ হয়েছেন তা সঠিক ভাবে কেউ
বলতে পারছে না। ইকবাল জেলে যাওয়ার পর থেকে কুলসুম
বাবার বাড়ি বা শশুড় বাড়ির কোথাও নির্দিষ্ট ভাবে থকতো
না। তবে সর্বশেষ সে প্রায় ২০ দিন আগে তার মেয়েকে
স্কুলে ভর্তি করাতে যায়।
কুলসুম বেগমের ভাশুর মির হোসেন বলেন, তার ভাতিজা
অয়ন গত ২৯ জানুয়ারী মানিকগঞ্জ থেকে এলাকায় বিয়ের
দাওয়াত খেতে আসে। তাকে নিয়ে এনজিওর লোকজন তারনানার বাড়ীতে গিয়ে কুলসুম বেগমের খোঁজে করে।
কিন্তু ভাতিজা তার মায়ের নিখোঁজের বিষয়টি তাদের
জানায়নি।
কুলসুম বেগমের বাবা আলী অকবর তার মেয়ের নিখোঁজের
বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলতে পারছেন না। তবে
দুই পরিবারের লোকজন ধারণা করেছিল কুলসুম বেগম
প্রেমের টানে কারো হাত ধরে চলে গেছে।
কুলসুম বেগমের নিখোঁজের বিষয়ে তার ছেলে অয়ন,
মেয়ে অরিন ও বাবা আলী অকবরের নির্লিপ্ততার কারনে
রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কঙ্কালের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছেন শ্রীনগর থানার
এসআই মুজাহিদ। তিনি জানান, কুলসুমের পরিবারের
লোকজন বলছে সে প্রায় ২০ দিন আগে নিখোঁজ
হয়েছে। কিন্তু কঙ্কাল ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই।
শ্রীনগর থানার ওসি(তদন্ত) হেলাল উদ্দিন জানান, কঙ্কালটি
উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যা মামলা রেকর্ড করে শনিবার
সকালে তা ময়না তদন্ত ও ডিএনএ প্রোফাইলের জন্য
পাঠানো হবে।