শ্রীনগরে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের ঘটনায় প্রভাবশালীদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২১

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের কামারগাঁওয়ের মাঠপাড়ায় ব্যক্তি মালিকানা জায়গা দখল করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের ঘটনায় প্রভাবশালীদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর আগে ওই এলাকার গোলাম কিবরিয়ার মালিকা জায়গার ওপর রাস্তা নির্মাণের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়াম্যান কাজী মনোয়ার হোসেন শাহাদাতের সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেন গোলাম কিবরিয়ার পুত্র রায়হান কিবরিয়া তিরক। অপরদিকে সুবিধাভোগীরা সরকারি বরাদ্দের রাস্তা নির্মাণের সুযোগ পেয়ে প্রকৃত জমির মালিকদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা ছাড়াই রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করে। সম্পত্তি রক্ষার জন্য রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার জন্য আবেদন করেন মালিক পক্ষ।
সরেজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, ভাগ্যকুলের মাঠপাড়া আব্দুল কাইউমের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ঘেষে পূর্ব দিকে হাওলাদার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০০ ফুট রাস্তা নির্মাণ কাজ এখন বন্ধ রয়েছে। নির্মাণাধীন সংযোগ রাস্তাটি পশ্চিম একদিকে মাঠপাড়া পাকা রাস্তা অপরদিকে ২০০ ফুট পূর্ব দিকে ইউসুফ হাওলাদারের বাড়ি। রেকর্ড বিহীন নির্মাণাধীন রাস্তার উত্তর থেকে প্রায় ৭ ফুট প্রস্থ রাস্তাসহ দক্ষিণ পাশে জুড়ে হাওলাদার বাড়ি পর্যন্ত পুরোটাই গোলাম কিবরিয়ার মালিকানা সম্পত্তি (ভাগ্যকুলের কামারগাঁও মৌজার খতিয়ান নং ১২১৯, দাগ নং ২২৩১, ২২২৯, ২২২৯, ২২৩২, ২২৩০ মোট নাল সম্পত্তি পরিমান ১০৮ শতাংশ)। এখানে সরকারি রেকর্ডকৃত কোন রাস্তার নকসা নেই। এ সময় লক্ষ্য করা গেছে, হাওলাদার বাড়ি যাতায়াতের জন্য ওই বাড়ির দক্ষিন পাশে কবরস্থান সংলগ্ন মাঠপাড়া পাকা রাস্তা ও সামান্য উত্তরে দিকে শ্রীনগর-দোহার আন্ত:সড়কের সাথে যাতায়াতের জন্য সংযোগ রাস্তা রয়েছে। অথচ স্বজনপ্রীতির কারণে স্থানীয় চেয়ারম্যান মালিকানা জায়গায় সরকারি বরাদ্দ দেওয়ায় সচেতন মহলে বিষয়টি হাস্যকর হয়ে দাড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গোলাম কিবরিয়ার পুত্র রায়হান কিবরিয়া তিলক যুক্তি সঙ্গত কারণেই নির্মাণাধীন ওই রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার দাবী করতেই পারেন। স্বজনপ্রীতির কারণে এখানে রেকর্ড বিহীন রাস্তায় এডিবির ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়াটা কাম্য নয়।
রায়হান কিবরিয়া তিলক অভিযোগ করে বলেন, আমরা ঢাকায় বসবাস করি। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারি আমাদের জায়গা দখল করে ইউসুফ হাওলাদর গংরা রাস্তা নিচ্ছে। খবর পেয়ে এলাকায় এসে জানতে চাইলে ইউসুফ হাওলাদারসহ বিএনপি নেতা মুরাদ হোসেন অভি, সুমন, নিশাত, রিপন, গফুর হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন মারমুখি হয়ে উঠে। ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করে ও হুমকি ঘমকি প্রদান করে। উপায় না পেয়ে শ্রীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করি। অপরদিকে কাজটি বন্ধ রাখার জন্য ইউএনও স্যার বরাবর লিখিত আবেদন করি। কাজটি এখন বন্ধ রয়েছে। কাজ বন্ধ থাকায় ইউসুফ হাওলাদার গংরা আমাদের প্রতি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদা দাবির অভিযোগ কওে বেড়ায়। রাস্তাটি নির্মাণের জন্য মহলটি এখনও তৎপর রয়েছে।
ইউসুফ হাওলাদার গংদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, সাবেক চেয়ারম্যানের আমলে রাস্তায় সরকারি মাটি ফেলা হয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা এখান দিয়ে যাতায়াত করে আসছি। আলাপ আলোচনা ছাড়া মালিকানা সম্পত্তির ওপর জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ কতটা গ্রহনযোগ্য এমন প্রশ্নে উত্তরে তারা বলেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য শাহাদাত চেয়ারম্যান আমাদেরকে সরকারি অনুদান দিয়েছেন।
ভাগ্যকুল ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মনোয়ার হোসেন শাহাদাতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে সাবেক চেয়ারম্যান তার শশুর লিয়াকত খান সরকারিভাবে মাটি ফালান। তবে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে শিকার করেন নির্মাণাধীন রাস্তাটি সরকারি রেকর্ডকৃত নয়।
অভিযোগটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শ্রীনগর থানার এসআই তন্ময় জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে আলোচনা করে জায়গা পরিমাপের জন্য বলা হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে আইন-শৃংখলা ও শান্তি বজায় রাখতে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. রাজিউল্লাহ জানান, যেহুতু জায়গাটি রাস্তার জায়গাটি নিয়ে বিরোধ চলছে তাই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। উভয় পক্ষ সমোঝতা হলে পুনরায় কাজ শুরু করা হতে পারে।
এ ব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণব কুমার ঘোষ জানান, লিখিত অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।

শ্রীনগর,মুন্সীগঞ্জ
০৫/০৮/২১ইং