শ্রীনগরে অবৈধ ভেসালে পোনা নিধন!

প্রকাশিত: ১১:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২১

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: খাল-বিল ও জলাশয়ে জোয়ারের পানি আসতে শুরু করছে। নতুন পানির সাথে আসা মা মাছ ও পোনা নিধনে তৎপর রয়েছে অসাধু জেলেরা। উপজেলার বিভিন্ন খালে অবৈধ ভেসাল জাল স্থাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও এসব পোনা মাছ নিধনে বিভিন্ন খালে ও চক/বিলের অল্প পানিতে নিষিদ্ধ কারন্টে জাল, চায়না দোয়াইর ও টেটাসহ নানা পন্থায় নিধন করা হচ্ছে দেশী প্রজাতির এসব পোনা মাছ। এমনটাই লক্ষ্য করা গেছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় জেলেরা নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বিভিন্ন খালের পয়েন্টে জাল দিয়ে আটকানোসহ অবৈধ ভেসাল বসাচ্ছেন। দেখা গেছে, আটপাড়ার কর্কটপাড়া খালে ব্রিজের সামনে, কুকুটিয়া এলাকার খোদাইবাড়ি খালে ও হাঁসাড়ার মধ্য হাঁসাড়া খালে, বাড়ৈখালী-হাঁসাড়া সড়কের আড়িয়ালবিল সংলগ্ন আলমপুর বেইলী ব্রিজের সামনে ইতিমধ্যেই অবৈধ ভেসাল বসানো হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খালে সাতগাঁও, আলমপুর, বাড়ৈখালী এলাকার খালগুলোতে যত্রতত্র ভেসাল স্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে অসাধুরা। অপরদিকে উপজেলার ভাগ্যকুল বাজার ও শ্রীনগর বাজারে নিষিদ্ধ বিভিন্ন প্রকার জাল বিক্রি হচ্ছে। অরো দেখা যায়, শ্রীনগর উপজেলা রোডের দেউলভোগে টেটার কারখানাগুলো মাছ শিকারের বিভিন্ন উপকরণ তৈরীর পাশাপাশি দেদারছে বিক্রি করছে।
মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন ১৯৫০’র বিধি-৭ অনুযায়ী বছরের ১লা এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শোল, টাকি, গজারসহ অন্যান্য মাছের পোনা ও মা মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানার বিধান থাকলেও এসব আইন মানার কোনও লক্ষণই এখানে চোখে পরেনি।
স্থানীয় মাছ শিকারীদের সাথে এবিষয়ে জানতে চাইলে মা মাছ ও পোনা নিধন এবং অবৈধ ভেসালের স্থাপনের বিষয়ে তারা কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি।
এলাকাবাসী জানায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতার অভাব থাকার কারণে পোনা নিধন থেকে বিরত থাকছেনা। এভাবে মা মাছ ও পোনা নিধন চলতে থাকলে দেশী প্রজাতির মাছ বিলুপ্তীর পথে যাবে। তারা আরো বলেন, স্থানীয় পুকুর ও ডাঙ্গায় আগের মত মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। খালে বিলে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মা মাছ ও পোনা নিধনের কারণে দেশী মাছের প্রজনন ক্ষেত্র এখন ধ্বংসের পথে। একারণে প্রতি বছর পুকুর-ডাঙ্গা বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে তাদের।
এ ব্যাপরে শ্রীনগর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার বসাক জানান, খুব শীঘ্রই মা মাছ ও পোনা সংরক্ষণের জন্য এলাকায় মাইকিং করা হবে। মা মাছ ও পোনা সংরক্ষণ আইনে কারেন্ট জাল, দোয়াইর, জালি এমনকি টেটাসহ সব ধরনের মাছ ধরার সরাঞ্জামাদী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অবৈধ ভেসালের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অবৈধ ভেসাল উচ্ছেদের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

শ্রীনগর,মুন্সীগঞ্জ
১৩/০৬/২১ইং