ভাগ্যকুলে ভূমি সিন্ডিকেট কতৃক জমি দখলের চেষ্টা ও প্রবাসীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২১

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের আল-আমিন বাজার সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে মালিকানা সম্পত্তি দখল চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের অভিযোগে এলাকার চিহ্নিত ভূমি সিন্ডিকেট একটি চক্রের বিরুদ্ধে ঢাকার কদমতলী থানায় জিডি করেছেন এক প্রবাসী। ডিজি নং-৬৩৯।

এলাকাবাসী জানায়, পাশ্ববর্তী বাঘড়া ইউনিয়নের বৈচার পাড় গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের পুত্র প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাক গং মালিকানা সম্পত্তি বিক্রি করতে চাইলে ভাগ্যকুল এলাকার উত্তর কামারগাঁও গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র মামুন ফকির জমি নেওয়ার কথা বলে ৫ লাখ টাকায় মৌখিক বায়না করেন। পরবর্তী তারিখে ওই জমি রেজিস্ট্রারী ও বাকি টাকা পরিশোধ করতে তালবাহানা শুরু ও জায়গাটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এনিয়ে ঢাকার জুরাইন এলাকার বর্তমান বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাককে বাসায় তুলে আনতে যায় মামুন ফকির ও আইয়ুব আলী ভূমি সিন্ডিকেটের ৫ সদস্য আব্দুল সামাদ মেম্বার ওরফে কাঁলা সামাদ, আজিবর, মনির, রবিন ও অরিন। এ সময় তাকে হত্যার হুমকির অভিযোগে কদমতলী থানায় জিডি দায়ের করেন আব্দুর রাজ্জাক।

কদমতলী থানার এসআই বদরুল আলম সাধারণ ডায়েরী সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি আব্দুল সামাদ মেম্বারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সে আমাকে জানিয়েছেন জমি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্জাকের বাসায় আসছিলেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভাগ্যকুলের কামারগাঁও মৌজার সিএস ১৩৯ দাগে ৩০ শতাংশ ও ১৪০ দাগে সাড়ে ১৮ শতাংশ মোট সাড়ে ২৪ শতাংশ জমির মালিক আব্দুর রাজ্জাক গং। রাজ্জাকের ভাই অসুস্থ আব্দুল মালেকের কিডনী প্রতিস্থাপন ও চিকিৎসার জন্য পরিবারটি জমি বিক্রির উদ্যোগ নেয়। এই সুযোগে ভূমি সিন্ডিকের মামুন ফকির জমিটি নেওয়ার কথা বলে মৌখিক বায়না করে পরবর্তী সময়ে জমিটি রেজিস্ট্রারী করে নিতে তালবাহানা শুরু করেন। এছাড়াও দরকৃত জমির বাকি টাকা পরিশোধ না করার চিকিৎসার অভাবে রাজ্জাকের ভাই আব্দুল মালেক মারা যায়। এরপর ওই এলাকার অন্য প্রবাসী জামাল মোড়লের কাছে জমিটি বিক্রি করেন রাজ্জাক গং। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামুন ফকির, আইয়ুব আলী ও সামাদ মেম্বার সিন্ডিকেট জমি দখল চেষ্টা ও রাজ্জাক গংদের হুমকি ধমকি দিতে থাকে। কয়েকদিন আগে আব্দুল সামাদ মেম্বার রাজ্জাককে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরই অংশ হিসেবে ওই জমিকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ভূক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জমিটি বিক্রির জন্য মামুন কবিদের সাথে মৌখিক বায়না হয়। নির্ধারীত সময়ে জমিটি লিখে নিতে তালবাহানা শুরু করেন। এতে টাকার অভাবে আমার ভাই বিনা চিকিৎসায় মারা যান। এর পরেও আমি তাদেরকে বিভিন্নভাবে সময় দিয়েছি জমিটি রেজিস্ট্রারী করে বাকি টাকা পরিশোধ করতে। দীর্ঘ ৭ মাস পরেও বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। একাধিকবার আমি তাদের বায়নাকৃত ৫ লাখ টাকা ফিরত দিতে চেয়েছি। তাতেও তারা রাজি রাজি হননি। হতাশা নিয়ে আমি সৌদি আরবে চলে যাই। পরে টাকার প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই সম্পত্তি অন্য খানে বিক্রি করি। এর পর থেকেই সিন্ডিকেটটি অন্যতম সদস্য সামাদ মেম্বার আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল সামাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে গালি-গালাজ করার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই সময়ে সম্পত্তির কগজের জটিলতা থাকায় রেজিস্ট্রারী করে নেওয়া হয়নি। আমি আর এখন এর মধ্যে নেই।

মামুন ফকির সৌদি আরবে থাকার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। আইয়ুব আলী অসুস্থতার জন্য এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম জানান, যেহেতু এটি জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়। আমি উভয় পক্ষকে এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে বলেছি। আমি তাদেরকে আদালতে যাওয়ার পরার্মশ দিয়েছি।

শ্রীনগর,মুন্সীগঞ্জ

২৭/১১/২১ইং