বেতাগীতে দুবাই সংস্থার ঘর দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে উধাও প্রতারকচক্র

প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

বরগুনার বেতাগীতে দুবাই আরব আমিরাত সংস্থার ঘর দেওয়ার নামে প্রতারনার মাধ্যমে একলাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তীর কথিত দুবাই আরব আমিরাত সংস্থার বরিশাল বিভাগীয় আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ও মোকামিয়া ৪ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য দেলোয়ারের প্রতি। ঘটনার পরে ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায় তার প্রতারকচক্রের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ মোকামিয়া ৪ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য দেলোয়ারের যোগসাজে এ প্রতারণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বেতাগী থানায় একটি অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার বিবরণ ও সংশ্লিষ্টদের কাছে জানা যায়, বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের করুণা গ্রামের সহিদ মৃধা (৫১) এর নিকট গত ৩ জুলাই বিকালে দুবাই সংস্থার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক পরিচয় ফোন আসে। ফোনে কথিত ওই ব্যবস্থাপক বলেন,‘ আপনার নাম সহিদ মৃধা। আপনার নামে দুবাই সংস্থার ১০ লাখ টাকার একটি ঘর বরাদ্দ হয়েছে এবং আপনার সাথে আমার ঠিকাদার ঘর নির্মান সামগ্রী রড,সিমেন্ট, বালু পাঠাবে এসব মালামাল বিষয় কথা বলবেন।’ এরপর ওই কথিত ব্যবস্থাপক শ্রমিক খরচ ও মালামালের কিছু খরচবাবদ টাকা দাবী করেন। একইভাবে ৪ জুলাই রাতে মোকামিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিন (৪৫) এর কাছে দুবাই সংস্থার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে ০১৩১৩২৫৭৩১২ নাম্বারে ফোন করে। আপনার নামে ১০ লাখ টাকার টিনসেট বিল্ডিং বরাদ্দ হয়েছে এবং ঘর নির্মান করার মালামাল বিবরণ দিয়ে টাকা দাবী করেন। এরপর মোকামিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ব্যবস্থাপকের ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত বশির উদ্দিন নামে এক ব্যাক্তি সহিদ মৃধা ও জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করেন।

বশির গত ৫ জুলাই দুপুরে দাদন আলী হাওলাদারের ট্রলারযোগে সহিদ মৃধা’র বাড়িতে ১ শত প্যাকেট সিমেন্ট, ১ ফাঁড়া বালি দেন। ইতোমধ্যে গত ৫ জুলাই সন্ধ্যার পরে দুবাই সংস্থার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সহিদ মৃধা’র কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ওই একই তারিখ সংস্থার ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিনের কাছে ১ লাখ টাকা দাবী করেন। পরের দিন ৬ জুলাই সকালে ঠিকাদারের পরিচিত বশির উদ্দিন জসিমের জন্য মোকামিয়া জালাল গাজী’র ইটবাটা থেকে ১০ হাজার ইট এবং ১ শত বস্তা সিমেন্ট নিয়ে আসে । মালামাল আসার সাথে সাথেই ওই কথিত ব্যবস্থাপক জসিমের কাছ ১ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য বার বার ফোন করে। এসময় জসিম মোকামিয়া ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ারের নিকট ফোন করেন এবং টিনসেট বিল্ডিংয়ের বিষয় বিস্তারিত কথা বলেন। ইউপি সদস্য দেলোয়ার জসিমকে ফোন করে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এসময় জসিম সংস্থার ব্যবস্থাপককে ৬০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। এরপরই সংস্থার ব্যবস্থাপকের ০১৩১৩২৫৭৩১২ নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। ওই নাম্বারে ফোন করে ব্যবস্থাপকের সঠিক নাম ঠিকানা ও পরিচয় জানা যায়নি। গত ৬ জুলাই জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে আসামী করে বেতাগী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এবিষয় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন,‘ আমি কারো টাকা দিতে বলিনি, এসব ব্যাপারে আমি তেমন কিছু জানি না। এ ব্যাপারে বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,‘ অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।