তাজুল ইসলাম রাকীবঃ লৌহজং প্রতিনিধিঃ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম পয়শা। পয়শা গ্রামের প্রায় প্রতিবাড়ি থেকেই একাধিক সদস্য জাপানে থাকেন। একই ইউনিয়নের মাইজগাঁও, শুরপাড়া, মাধাইশুর,ধারার হাট, নওপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন থাকেন জাপানে। কিন্তু পয়শা গ্রামের লোকজন বেশি পরিমাণে থাকেন জাপানে। আর এ কারণেই লৌহজং উপজেলাবাসীর কাছে এই গ্রামটি নাম পেয়েছে জাপানী গ্রাম হিসেবে। তবে দিন দিন জাপান প্রবাসীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বর্তমানে এই গ্রামের লোকসংখ্যা প্রায় ২৫০০/৩০০০ জন।১৯৯৫ সালের ভয়াবহ টর্নেডো পয়শা, মাইজগাঁও  গ্রামসহ ইউনিয়নের প্রতিটি  নিশ্চিহ্ন করে দেয়।

নিহত হয় পয়শা গ্রামের ১০ জন আর পুরো ইউনিয়নে নিহত হয় ২৪/২৫ জন। জাপানি প্রবাসীদের অর্থায়নে কিছুদিনের মধ্যে আবার ঘুরে দাঁড়ায় গ্রামটি। পয়শা,মাইজগাঁও ধারার হাট,শুরপাড়ার  প্রতিটি বাড়ি তৈরি হয়েছে জাপানি মুদ্রায়। বসতবাড়ি গুলো ব্যয়বহুল, দৃষ্টি নন্দন।চোখে তাক লাগায়। পয়শা,মাইজগাঁও গ্রামে জন্ম নেওয়া উজ্জ্বল ও আলোকিত করেছেন,দাতা হাতেম তাই খ্যাত দানবীর ইয়ানুছ শেখ মাইজভান্ডারি,কালের কণ্ঠ সম্পাদক সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কার্যকরী পরিষদের পরিচালক,বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও উষা ক্রীড়াচক্র সাধারণ সম্পাদক, লৌহজং আওয়ামীলীগের সাধারণ আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ শিকদার।

১৯৮৭ সালের পয়শা,মাইজগাঁও, শুরপাড়া থেকে প্রথম জাপানে যান ফারুক হোসেন বেপারী, আঃমালেক সারেং।এরপর ফারুক বেপারী, আহসান, মোজাফফর কাজী, বাদল চাকলাদার, বাবুল শেখ ও মালেক  সারেং এর সহযোগিতায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় লোকজন জাপানে যাওয়া শুরু করেন।পয়শা মাইজগাঁও সহ ইউনিয়নের প্রায় প্রত্যেকটি গ্রাম থেকে১৫০০/২০০০ লোক জাপানে যায়। অনেকের মতে যে লোক কোনদিন ঢাকায় যায়নি সেও জাপানে গেছেন। জমি চাষ করার মুহুর্তে ধরে এনে জাপানে পাঠিয়েছেন।এক পরিবার থেকে ৬ থেকে ৭ জন সদস্য জাপান গেছেন।১৯৯২ সালের পর জাপান সরকারের শর্ত ও ধরপাকড়ের কারণে অনেকে দেশে চলে আসেন। এখনও বৌলতলী ইউনিয়নের প্রায় চার থেকে পাঁচ শতাধিক লোক জাপানে থাকেন।এর মধ্যে পয়শা গ্রামেরই আছে প্রায় শতেক খানেক।কেউ কেউ স্থায়ী হয়েছেন জাপানে তেমনি একজন হলেন মোঃ বাদল চাকলাদার। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স  এন্ড ইন্ড্রাট্রি ইন জাপানের প্রেসিডেন্ট।।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *