Home / ধর্ম ও জীবন / মুসলমানকি শিরক করতে পারে? নামধারি বা ডেকোরেশনধারীদের পক্ষে সম্ভব

মুসলমানকি শিরক করতে পারে? নামধারি বা ডেকোরেশনধারীদের পক্ষে সম্ভব

মাওলানা জহিরুল ইসলাম আজাদী: মুসলমানের প্রথম কাজই হলো তাওহীদের উপর একনিষ্ঠ হয়ে দৃঢ়তার সাথে অটল অবিচল ভাবে জীবন পরিচালনা করা। যেই মানুষটি তাওহীদের উপর জীবন চালায়, সে তো আল্লাহর ও তার রাসুল (সঃ) ওপর এমন দৃঢ় বিশ^াশ তার অন্তরে বদ্ধমূল করে রেখেছে। জীবনটা চলে গেলেও সে এ যায়গা থেকে চুল পরিমাণ সরে দাড়াবেনা। যেমুনটি প্রমান দিয়েছে হযরত সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) তাহাদের চিন্তা চেতনা লিছ দুনিয়ায় সব কিছ হাত ছাড়া হোয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ ও তার রাসুল আমাদের উপর রাজি ও খুশি থাকবেন। আমরা মুসলমান বলে ও দাবী করি আবার আল্লাহর সাথে অনেক কিছুর সাথে শরীক করি। যেমন প্রথমত জীবন মৃত্যুর কথা বলা যাক আমররা কখনো কখনো মানুষের কাছে জীবন ভিক্ষা চাই (রাষ্ট্র পতির কাছে) জীবনের মালিক হলেন আল্লাহ। কোরআনে কারীমে তিনি বলেন ঃ একমাত্র তিনিই মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করিয়াছেন। (সুরা মুলক:২) আল্লাহর কোরআন দ¦ারা যেহেতু প্রমানিত যে জীবন মৃত্যুর মালিক ও ¯্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ। এর পরে ও কি একজন মানুষ নিযেকে মুসমান বলে দাবী করবে আবার মানুষের কাছে প্রান ভিক্ষা চাইবে। আর কী মুসলমানের খাতায় তার নাম বাকী থাকতে পারে? মুশরিক হইতে বাকী কোথায়? কুরআনে করীমে আল্লাহ তার রাসুল (সাঃ) কে লক্ষ করে বলেন। হে রাসুল আপনি বলুন, বল হে খোদা তুমি সমস্ত রাজ্য ও সা¤্রাজ্যের মালিক। তুমি যাকে চাও রাজ্য দান কর। আর যার নিকট হতে ইচ্ছা কেড়ে নাও। যাকে চাও সম্মান দান কর আর যাকে চাও অপমানিত ও লাঞ্চিত কর। সকল প্রকার মঙ্গল ও কল্যান তোমারই এখতিয়ারে রয়েছে, নিশ্চই তুমি সর্ব শক্তিমান। রাতকে দিনের মধ্যে তুমিই শামিল করে দাও, আবার দিনকেও শামিল করে দাও রাতের মধ্যে। জীবনহীন জিনিস হতে বের কর জীবন্ত জিনিস, আর জীবন্ত জিনিস হতে জীবনহীন জিনিস বের কর। তুমি যাকে চাও বে হিসাব পরিমানে রিযিক দান কর। (সুরা আল ইমরানঃ ২৭,২৮) একজন তাওহীদ বাদী মুসলমান মুশরীকদের সাথে হীনতম সম্পর্কও রাখতে পারে না। তাওহীদ ও শীরক দ্বিমুখী ২টি শব্দ কখনো এক যাযগায় থাকতে পারে না। যার কাছে শীরক আছে তার কাছে তাওহীদ নাই। আবার যার কাছে তাওহীদ আছে তার সাথে শীরকের কোন সম্পর্ক নাই। আমরা বাস্তবে যেটা দেখতে পাই যার কাছে জীবন ভিক্ষা চাওয়া হচ্ছে। তিনি নিজেই তার জীবন টা রক্ষা করতে পারছেন না। ওই ক্ষমতায় বা মছনদে বসা অবস্থায় আজরাঈল (আঃ) তার জীবনটা ছো মেরে নিয়ে যায়। মানুষ এগুলো দেখে ও এই সব পচা গান্ধা মানব রচিত আইন কানুনের পক্ষপতিত্ত্ব করে, রায় দেয়। এই সব লোক যদি বছরে ৫০ বারও হজ্জ করে, কিংবা প্রতিদিন হাজার রাকাত নফল নামাজও পরে জুব্বা পাগরী তসবিহ মুখে লম্বা দারি রাখে। আল্লাহ কি এদের দিকে ফিরে তাকাবেন? যেহেতু তিনি বলেছেন হে রাসুল ঃ- তুমি নিজে ও যদি শিরক কর তোমার সমস্ত আমল বর্বাদ হয়ে যাবে। এবং অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে। (সুরা যুমার ৬৫) আল্লাহ তার রাসুল কে যদি এই কথা বলতে পারেন তাহলে তো প্রথিবীর নাস্তিক ও মুরতাদের কোন কথাই থাকতে পারে না। এবং তাদের অনুসারীদের ও কিছু বাকী থাকে না। আল্লাহ যেন আমাদের শিরক মুক্ত থেকে খাটি মুসলমান হওয়ার তওফিক দান করেন। আমিন।

চেয়ারম্যান মানব কল্যান ফাউন্ডেশন, বিক্রমপুর, ঢাকা।
চেয়ারম্যান ঃ দারুল কুরআন হযরত শাহ জালাল (রহঃ) একাডেমী, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ।
সভাপতি ঃ জমিয়াতুল মুফাসিসরীন বাংলাদেশ সোসাইটি, মাদারীপুর জেলা শাখা।

About admin

Check Also

লৌহজংয়ে মাঝরাতে ডাকাত পড়ার গুজবে মসজিদে মসজিদে মাইকিং, এলাকায় আতঙ্ক

তাজুল ইসলাম রাকীব, লৌহজং থেকেঃ ‘গ্রামে ডাকাত পড়েছে’ এমন খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা করায় লৌহজংয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *