Home / খেলা / পাকিস্তান আচমকাই হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর!

পাকিস্তান আচমকাই হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর!

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : পাকিস্তানের সম্প্রতিক ফর্ম মোটেই ভাল নয়। আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজে লজ্জাজনকভাবে ‘হোয়াইটওয়াশ’ হয়ে ইংল্যান্ডে পা রাখে সরফরাজ আহমেদের দল। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির শেষ সুযোগটাও কাজে লাগাতে পারেনি তারা। পাঁচ ওয়ানডেতে হার ৪-০ ব্যবধানে। তবু সব প্রতিপক্ষকে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তানীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। সাবেক লঙ্কান গ্রেটের মতে, বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তান এমন এক দল যারা পেছন থেকে শুরু করে কিন্তু আচমকাই হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর। সময়টা খারাপ গেলেও পাকিরা যেকোন প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে বলে মনে করেন সাঙ্গা। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সবসময়ই কঠিন একটি দল। ফেবারিটের তালিকায় না থাকলেও, একেবারেই শেষ মুহূর্তে জ্বলে উঠতে সক্ষম। তাই তাদের নিয়ে সব দলেরই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’ সম্প্রতি মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে সাঙ্গাকারা বলেন, ‘সম্প্রতি ফর্মের বিচারে পাকিস্তানকে দুর্বল ভাবলে ভুল হবে। যেকোন দলের চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী তারা। তারা পেছন থেকেই শুরু করে বড় বড় সাফল্য অর্জন করে নেয়। সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিই সেই প্রমাণ দেয়। তাদের সহজভাবে নেয়া উচিত নয়। পাকিস্তানের বিষয়ে সবার সতর্ক থাকতে হবে।’

লীগ পর্বে ভাল বা খারাপ খেলুক, নকআউট পর্বে পাকিস্তান পৌঁছে গেলে তাদের আটকানো কঠিন হবে বলে মনে করেন সাঙ্গাকারা। তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান সবসময়ই অ-ধারাবাহিক একটা দল। কিন্তু তারা যদি একবার নক-আউট পর্বে পৌঁছে যায়, তখন আরও বেশি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। যেকোন দলকে হারিয়ে দিতে পারে।’ তবে পাকিস্তান বোলারাদের আরও উন্নতির প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন সাঙ্গাকারা, ‘ইংল্যান্ডের মাটিতে সবশেষ সিরিজে বোলাররা ভাল করতে পারেনি। সব ম্যাচেই তিন শ’র ওপরে রান দিয়েছে। তাই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বোলাদের আরও উন্নতি করতে হবে এবং ভাল পারফর্মেন্স করতে হবে।’
সময়টা খুবই বাজে যাচ্ছে পাকিস্তানের। টানা ১১ ওয়ানডেতে কোন জয় নেই (একটি পরিত্যক্ত)। সর্বশেষ জয় গত জানুয়ারিতে। আর ২০১৮ সালের জুনের পর কোন দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বা টুর্নামেন্টে জয় পায়নি। এশিয়া কাপে ব্যর্থ, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ হার, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-০ ব্যবধানে হার, ইংল্যান্ডের কাছে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে হার। প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের বাজেভাবে হার অনেকের কাছেই সমালোচনা হচ্ছে। আফগানিস্তানের কাছে তাদের হার কেউই মেনে নিতে পারছেনা। সব মিলিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে অনেকেই দুর্বল মনে করছেন। আগামীকাল ৩১ মে নটিংহামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরু করবে সরফরাজ আহমেদের দল।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজকে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন বুমবুম খ্যাত শহীদ আফ্রিদি। পাকিস্তান অধিনায়ককে ব্যাটিং পজিশন উপরে এনে সামনে থেকে নেতৃত্বের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আফ্রিদি বলেন, চার নম্বরের নিচে নামা মানে সরফরাজ নিজেকে নষ্ট করছে। দলের প্রয়োজনে ওকে উপরের দিকে ব্যাটিংয়ে আসতে হবে। অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে হবে। পাকিস্তানের এ কিংবদন্তি ক্রিকেটার আরও বলেন, পাঁচ থেকে সাত নম্বরে ব্যাট করতে হলে হাতে বড় শট থাকা দরকার। যেটা সরফরাজের নেই। তাই ওকে উপরের দিকে ব্যাট করতে হবে। বড় রানের মঞ্চ তৈরি করতে হবে। আমি মনে করি পাকিস্তান ফাইনাল খেলবে। তবে আল্লাহর বিশেষ কৃপায় ফাইনালে উঠাও সম্ভব। আমাদের তরুণদের ক্ষমতা আছে বিশ্বের যেকোনো দেশকে হারিয়ে দিতে। তাই আমি পাকিস্তানকে ফাইনালে দেখতে আশাবাদী। তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক আফ্রিদি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপ থাকা অনিবার্য। মানসিক দৃঢ়তার সঙ্গে এটি সব খেলোয়াড়দেরই নিতেই হয়। তবে বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট একজন ক্রিকেটারদের বিশ্ব তারকা হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। সারা বিশ্ব তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা শেষ হতে চলল। কালই বেজে উঠবে বিশ্বকাপের দামামা। ক্রিকেটের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটি কেমন হবে তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ক্রিকেটবোদ্ধারা যে যার মতো করে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম মনে করেন, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরটি হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এখানে যে কোন দেশই জ্বলে উঠতে পারে। পাকিস্তানের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। বলেন, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স ভালো যাচ্ছেনা। তবে পাকিস্তানে যারা রয়েছে তারা যে কোন দেশকে হারাতে সক্ষম।
পঞ্চমবারের মতো ক্রিকেটের শোপিস ইভেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এ নজির আর কোনো দেশের নেই। এবারের আসর হবে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে। অংশগ্রহণকারী ১০ দেশ গ্রুপপর্বে একে অপরের মুখোমুখি হবে। লিগপর্বে সেরা চার দল খেলবে সেমিফাইনাল। আগামী ১৪ জুলাই শেষ চারের সেরা দুদল ফাইনালে শিরোপার জন্য লড়বে। সব মিলিয়ে ৪৮টি ম্যাচ হবে ৪৬ দিনের এই টুর্নামেন্টে। এর আগে ১৯৯২ বিশ্বকাপে এই ফরম্যাটে খেলা হয়। ওয়াসিম আকরাম বলেন, ১৯৯২ বিশ্বকাপের ফরম্যাটে হবে এবারের বিশ্বকাপ। প্রথম পর্বে কোয়ালিফাই হতে প্রতিটি দল অনেক সুযোগ পাবে। শক্ত প্রতিযোগিতা হবে। অভূতপূর্ব ক্রিকেট দক্ষতা দেখার আশা করছি। এখন পর্যন্ত একবার বিশ্বকাপ জিতেছে পাকিস্তান। ১৯৯২ সালে ইমরান খানের অসাধারণ নেতৃত্বে বিশ্ব ট্রফি জেতে দলটি। বিশ্বকাপজয়ী সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ওয়াসিম। ১৯৯৯ সালে নিজের নেতৃত্বে দলকে ফাইনালে তুলে স্বপ্নভঙ্গ হয় ওয়াসিমের। এবারের বিশ্বকাপে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বে আছেন তিনি।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তান নতুন ইতিহাস গড়বে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব মানুষের কাছে অন্যরকমের। অনেকেই বলতে শুরু করে দিয়েছেন, বিশ্বকাপ না জিতলেও চলবে। ভারতকে হারাতে পারলেই আমরা খুশি। আমি আশাবাদী এবার ভারতকে আমরা হারাতে পারব। বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের ইতিহাস এবারই বদলাতে পারব বলে আশা রাখি। পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক ইনজামাম বলেন, মানুষ মনে করে ১৪-১৫ জন ক্রিকেটারের নাম লিখে ফেললেই একটা স্কোয়াড তৈরি করে ফেলা যায়। কিন্তু ব্যাপারটা অতটা সহজ নয়। প্রচুর চাপ থাকে। বিশ্বকাপের আগে আফগানদের বিপক্ষে দলের পরাজয় নিয়ে ইনজামাম বলেন, বিশ্বকাপে কোনও দলকেই হালকাভাবে নেওয়াটা ঠিক হবে না। আফগানিস্তানের মতো দল যে কোনও বড় দলকে হারানোর ক্ষমতা ধরে।
১৯৯২ সালে পঞ্চম ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৯ দল নিয়ে। সেবার রবিন লীগ পদ্ধতিতে সব দলই পরস্পরের সঙ্গে মোকাবেলা করেছিল প্রাথমিক রাউন্ডে। পরে শীর্ষ চার দল নিয়ে সেমিফাইনাল হয়েছিল। তাই প্রতিযোগিতাটা ছিল কঠিন। দুয়েকটি ম্যাচ হারলেও সুযোগ ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। ২৭ বছর ও মাঝে ৬ বিশ্বকাপ পেরিয়ে গেছে, আবারও সেই ফরমেটে এবার ১২তম আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার দল আরেকটি বেশি। ১০ দল নিয়ে বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডের মাটিতে গড়াচ্ছে আগামীকাল। গত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হয় নিউজিল্যান্ড। সেই বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড। তারা আর ট্রফি বাইরে যেতে দেয়নি। ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ড তিনবার ফাইনালে উঠলেও শিরোপা স্বাদ নিতে পারেনি। এবার তারা অন্যতম ফেবারিট। আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০ এ থাকা দলগুলো নিয়েই এবার বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অবশ্য সেরা ৮ দল সরাসরি সুযোগ করে নিয়েছে আর বাকি দুই দলকে আসতে হয়েছে বাছাইপর্ব খেলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান বাছাই পেরিয়ে আসলেও জিম্বাবুইয়ে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথমবারে জিম্বাবুইয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারছে না এবার। অর্থাৎ বর্তমান বিশ্বের সেরা ১০ দলই এবার বিশ্বকাপ খেলবে।
বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের ভাবনা বলতে গিয়ে পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ বলেন, সব দলই খুব ভারসাম্যপূর্ণ, সব দলই খুব ভাল দল। ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের পারফর্মেন্স বরাবরই ভাল। ১৯৯২ সালে টেস্ট সিরিজের কথা যদি ধরি, এরপর ২০০৯ সালের বিশ্ব টি২০, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের রেকর্ড বেশ ভাল। এই বিশ্বকাপেও আমরা খুব ভাল করার বিষয়ে আশাবাদী।
প্রস্তুতি ম্যাচে হারের বিষয়ে অধিনায়ক সরফরাজ বলেন, এভাবে হারলে তার কোন ব্যাখ্যাই থাকতে পারে না। বড় ব্যাপার হচ্ছে টপ-অর্ডারে আমাদের ব্যাটিং ভাল হয়নি। আরও ২০-৩০ রান বেশি হওয়া উচিত ছিল। তবে বাবর চমৎকার ব্যাটিং করেছে। বিশ্বকাপে সে আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান। অনেকদিন পর দলে ফিরে ওয়াহাবও ভাল বোলিং করছে। বিশেষ করে ডেথ-ওভারে। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ভাল করাটাই এখন পরবর্তী লক্ষ্য। আশা করছি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আমরা নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারব।

About admin

Check Also

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ

আজ সোমবার (১৭ জুন) টনটনে টস জিতে উইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *